Published : 21 Jul 2026, 10:02 PM
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের ‘যথাযথ’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
একইসঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তির দিন মঙ্গলবার স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক ও দোয়া মাহফিলে তারা এ দাবি জানান।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই বিমানবাহিনীর একটি 'এফ-৭বিজিআই' যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘হায়দার আলী’ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। তাতে পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, তিনজন অভিভাবক এবং একজন স্কুলকর্মী ছিলেন। আহত হন ১৭২ জন।
নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এ শোক ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে আহত শিক্ষার্থী নাভিদের বাবা মো. মিজানুর রহমান বিচারের দাবি জানান।
তিনি বলেন, “যে বাচ্চাগুলো বেঁচে আছে, আমাদের তো তাদের কাছে জবাব দিতে হবে। দায় নিতে হবে। আমরাতো সমাজে বসবাস করি। ওরাতো এগুলো জিজ্ঞেস করে, আমাদেরতো উত্তর দিতে হবে। এটা কি এভাবেই চলতে থাকবে? বিচার হবে না? বিচারের জায়গাটায় আপনারা মনযোগ দেন।

“আমরা সবার কাছে যাই, সবাই (বিচারের) আশ্বাস দেয়। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে যেরকম সিচুয়েশন, সেখানেই পড়ে থাকে। খুব আশ্চর্য মনে হয়, খুব লজ্জা লাগে। আমাদের দ্বারে দ্বারে কেন ঘুরতে হবে। ওই জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন কেন আপনারা আমাদেরকে?”
আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে সরকাারের প্রতি দাবি জানান নিহত শিক্ষার্থী তাসনিয়া হকের বাবা মো. নাজমুল হক।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সে কথ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে আমরা চাইব সরকারের পক্ষ থেকে যেন যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক একটা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়।”
ক্যাম্পাসের প্রধান সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান এবং মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবীও বক্তব্য দেন।

বিএনপি নেতা মোস্তফা বলেন, “আমরা শুনেছি হাই কোর্ট রায় দিয়েছে আহত শিক্ষার্থীদের এক কোটি ও নিহত শিক্ষার্থীদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণে দেওয়ার। সরকার যেন তা বাস্তবায়ন করে সে আহ্বান জানাচ্ছি।”
আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে বিএনপি নেতার প্রতি আহ্বান জানান নুরন নবী। একইসঙ্গে তিনি আহত শিক্ষার্থীদের হেলথ কার্ড দিতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল, আহত শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত, শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার ও ফারজানা কাবেরি।
এর আগে সকালে ক্ষতিগ্রস্ত হায়দার আলী ভবনের সামনে নির্মিত বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিহতদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা।
মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা নুরন নবী ছাড়াও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, কলেজের উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ রিফাত নবী আলম এবং মাইলস্টোন স্কুল দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম খান শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।