Published : 26 Aug 2025, 01:54 PM
দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িওয়ালার ছেলের বউকে খুন করে চলে যান আত্মগোপনে, পরিচয় গোপন করে বেছে নেন হকারি।
অবশেষে চার বছর পর পিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েন ৩৫ বছর বয়সী মো. আরিফ।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো বেলতলা এলাকা থেকে রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা জানিয়েছেন।
পিবিআই বলছে, বাড়িওয়ালা নাজনীন আক্তারের নির্দেশে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে আরিফ তার ছেলের বউ মাহবুবা আক্তার নামের ওই নারীকে খুনের পরিকল্পনা করে এবং এ জন্য তিনজন খুনিকে ভাড়া করে আনেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে., তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর এসআই মো. মহসিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আরিফ সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বর্নণা দিয়েছেন।”
২০২১ সালের ১৬ জুলাই নগরীর ইপিজেড থানার নারিকেল তলা এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে খুন হয় ছয় মাসের অন্ত:সত্ত্বা মাহবুবা আক্তার (২৪)। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি ছিল ডাকাতের একটি দল তাদের ছেলের বউকে খুন করে মালামাল লুট করেছে।
আর মাহবুবার পরিবারের ভাষ্য ছিল, ঘটনার ধামাচাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাহবুবার ভাই শাশুড়ি নাজনীন বেগম (৫৫), স্বামী আবদুল গোফরান (৩৫) ও তাদের ভাড়াটিয়া মো. আরিফসহ অজ্ঞাত আরও কয়েক জনকে আসামি করে ইপিজেড থানায় মামলা করে।
পিবিআই কর্মকর্তারা বলেছেন, এ মামলায় তিনজনকে আসামি করে ইপিজেড থানা পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটিত না হওয়ায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মহসিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাহবুবা ছিলেন তার স্বামী গোফরানের আপন খালাতো বোন ও তৃতীয় স্ত্রী। গোফরানের মা নাজনীনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তার আগের দুই স্ত্রীও চলে যায়।
“মাহবুবার সাথেও নাজনীনের ‘বনিবনা’ ছিল না। নিজের ভাগনির সাথেও বনিবনা হচ্ছে না লোকমুখে এমন কথা শুনতে হতে পারে ভেবে এ খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। সেজন্য দেড় লাখ টাকায় তাদের ভাড়াটিয়া আরিফের সাথে চুক্তি করে। সে হিসেবে আরিফ তার পরিচিত তিন ব্যক্তিকে ঠিক করে মাহবুবাকে খুনের জন্য। তার পরিকল্পনায় ২০২১ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে নামাজরত অবস্থায় খুনিরা মাহবুবাকে গলাটিপে খুন করে পালিয়ে যায়।”
এসআই মহসিন বলেছেন, আরিফ আগে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। মাহবুবাকে ‘খুনের পর’ তিনি নিজের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী চলে যান।
সেখানে বছর খানেক থেকে ফের চট্টগ্রাম চলে আসের এবং পরিচয় গোপন করে জসীম নামে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় ঘর ভাড়া নেন। শহরে কখনও সবজি আবার কখনও ফেরি করে খেলনা বিক্রি করতেন আরিফ।