Published : 12 Jun 2026, 10:17 AM
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সেখান থেকে রোগীদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ সরদার।
শুক্রবার ভোরেও নগরের সোনাডাঙ্গা থানার ময়লাপোতা মোড়ের এই হাসপাতালে উৎসুক জনতা ও রোগীর স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। তাদের কেউ এসেছেন রোগীর খোঁজখবর নিতে আবার কেউ এসেছেন সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে।
সাতক্ষীরা সদর থেকে আসা নাজনীন নাহার বলেন, তিনি অনেক ভোরেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তার বড় ভগ্নিপতি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাত থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছেন তারা। কোন হাসপাতালে আছেন, তা এখনো জানতে পারেননি।
হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে নগরের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন খুঁজতে দেখা যায়। তারা জানান, রাতে উদ্ধার কাজের সময় ফোনটি হারিয়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মাসুদ সরদার বলেন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৭তলা ভবনের নিচতলায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা ও জনগণের চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগী ও স্বজনরা আটকা পড়েন। আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় হাসপাতালে অবস্থানকারী অনেকে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নেমে আসেন সক্ষম হন। আবার অনেকে ভয়ে হাসপাতাল ভবনের উপরের তলায় উঠে যান।
মাসুদ সরদার বলেন, হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে সম্ভবত আগুনের উৎপত্তি হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সাপেক্ষে জানানো যাবে।
হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। তবে হাসপাতালে কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, আগুনের ঘটনার পরপরই সিটি মেডিকেল থেকে রোগীদের নামিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
আগুনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।