Published : 27 Aug 2021, 03:53 PM
বুধবার থেকে সকালে তিন ঘণ্টা প্রাতঃভ্রমণের জন্য ডিসি হিল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিকেলে বন্ধ থাকছে এই পাহাড়, যা এক সময় নগরীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ছিল।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাঁটাচলার জন্য গত পরশু থেকে ডিসি হিল খোলা আছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি কোভিড-১৯ চলা অবস্থায় না, করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে তারপর সিদ্ধান্ত হবে।”
ডিসি হিলের মুক্তমঞ্চে কীভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে, ব্যবস্থাপনায় কোনো কমিটি থাকবে কিনা- সেসব বিষয় পরে ঠিক করা হবে বলে জানান ডিসি মমিনুর রহমান।
ডিসি হিলে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মুক্ত করার দাবিতে প্রায় চার বছর ধরে সংস্কৃতি কর্মীরা দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ আছে।
এরপর করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হলে কয়েক দফায় লকডাউনের সময় জন সমাগম এড়াতে ডিসি হিলে প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণের সময়ও বন্ধ রাখা হয়।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সবশেষ লকডাউন তুলে দেওয়ায় বুধবার থেকে মর্নিংওয়াকের জন্য সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে ডিসি হিলের ফটক। তবে বিকেলে খুলে দিলে বেশি লোক সমাগম হতে পারে বলে মহামারী পরিস্থিতিতে তা করা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসকের সাথে ডিসি হিলে তার বাসভবনে দেখা করতে যান সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।
তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেন।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুচ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান চৌধুরী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, সাংস্কৃতিক সংগঠক স্বপন মজুমদার, প্রণব চৌধুরী ও সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম মুন্না ছিলেন ওই প্রতিনিধি দলে।
প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্মারকলিপি দিতে গেলে আলোচনার শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে আমরা বলেছি, ডিসি হিল আমরা সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য খোলা পাব কি না? এটা বন্ধ রাখাটা আমরা সংস্কৃতিকর্মীরা অন্যায় মনে করি।

রাশেদ হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ডিসি হিল যেন উন্মুক্ত করা হয়। প্রয়োজনে এখানে কীভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হবে, কোন শর্তে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে- তার একটি নীতিমালা করা হোক।
“রাতে কতক্ষণ ধরে অনুষ্ঠান চলবে বা কত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে সেসবও নীতিমালায় থাকতে পারে। মাথা ব্যথার জন্য তো মাথা কেটে ফেলা যায় না। নীতিমালার মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান করার পদ্ধতি চালু করা হলে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ তরান্বিত হবে।”
২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে ‘অপরিচ্ছন্নতার’ কারণ দেখিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিসি হিলে বছরে তিনটি ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান আয়োজন না করার আহ্বান জানান। এই তিন অনুষ্ঠান হল- পহেলা বৈশাখ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী।
এরপর থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডিসি হিলে আর কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ রেখেছে।
এর প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ’ ও যুব ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।
এরপর প্রায় পাঁচ মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের একটি আবৃত্তি সংগঠন ডিসি হিলে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পায়। তবে এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
২০১৮ সালের ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে সেসময়ের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ নিয়ে ক্ষোভ জানালেও ডিসি হিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।
চট্টগ্রামের ডিসি হিলে উন্মুক্ত মঞ্চের পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন রয়েছে।
ইতপূর্বে বলা হয়েছিল, ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাইকের আওয়াজে তাদের পারিবারিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটায়।