Published : 22 Dec 2025, 08:27 PM
সবগুলো আইনি ধাপ শেষে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল মঙ্গলবার মামলার তারিখ রয়েছে। কাল হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বদলি করা হবে।”
এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালতে অথবা ওই আদালত নির্ধারিত অন্য কোনো আদালতে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।
আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন এখানো পলাতক।
সহকারী পিপি বলেন, “পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এরপর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
“অর্থাৎ পলতাক আসামিদের বিচারের জন্য সকল আইনগত প্রক্রিয়ার ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে মামলাটি এখন সম্পূর্ণভাবে বিচারের জন্য প্রস্তুত।”
গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ আইনজীবীরা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছিল।
মামলাটি বিচারিক আদালতে যাবার জন্য প্রস্তুত হলেও দ্রুত বিচার নিয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন এ আইনীজীবী।
রায়হানুল চৌধুরী বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ এতটা চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল একটি মামলা হওয়া সত্ত্বেও এখনো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি।
“সাধারণ বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করতে পারে। এই আশঙ্কা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। আমরা অবিলম্বে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে কার্যকর ট্রায়ালের মাধ্যমে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছিলেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক।
আলিফ হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবিতে আইনজীবীদের মানবন্ধন
আলিফ হত্যা: চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ
আইনজীবী আলিফ হত্যার অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি চিন্ময়
আইনজীবী আলিফ হত্যা: আসামি সুকান্ত গ্রেপ্তার
আইনজীবী আলিফ হত্যা: জমা পড়েনি দুই আসামির পরোয়ানা তামিলের প্রতিবেদন
আলিফ হত্যা: অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানিতে উপস্থিতি হতে বাদীক