Published : 01 Dec 2025, 08:15 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় দুই পলাতক আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত দিনে আদালতে জমা পড়েনি।
সোমবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর ছিদ্দিকের আদালতে এই মামলার দিন ধার্য ছিল।
পরে আদালত আবারও ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
ওই দুই আসামি হলে মামলার অভিযোগপত্র ভুক্ত শুভ কান্তি দাস ও সুকান্ত দত্ত।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “আজ মামলার ধার্য তারিখ ছিল। কিন্তু দুই আসামির বিরুদ্ধে ‘প্রোকলেমেশন অ্যান্ড এটাচমেন্ট’ (পিঅ্যান্ডএ) অর্থাৎ হুলিয়া ও সম্পদ ক্রোকের আদেশ জারির প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
“পিঅ্যান্ডএ জারির দায়িত্ব পুলিশের। এই প্রতিবেদন না আসায় মামলার কার্যক্রম অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাটি সাধারণ মামলার মতো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।”
এ আইনজীবী বলেন, “ফৌজদারি মামলার নিয়ম অনুসারে আসামিদের বিরুদ্ধে শুরুতে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তারপরও কেউ পলাতক থাকলে তার বিরুদ্ধে পিঅ্যান্ডএ জারি করা হয়।
“এই মামলায় ১৮ জন পলাতক আসামির মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে জারি করা পিঅ্যান্ডএ এর প্রতিবেদন এসে পৌঁছেছে। কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুজন আসামির এই প্রতিবেদন এখনো আসেনি। ওই দুই আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।”
এই প্রতিবেদন আসার পর সব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে জানিয়ে রায়হানুল বলেন, “বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দায়রা জজ আদালতে যাবে। সেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হবে।”
গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছিলেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৮ জন আসামি এখনো পলাতক।
গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ আইনজীবীরা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানায়।
পুরনো খবর-আলিফ হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবিতে আইনজীবীদের মানবন্ধন