Published : 26 Nov 2025, 03:02 PM
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
বুধবার দুপুরে আদালত ভবন এলাকায় আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, “একজন আইনজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করা বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামি দ্রুত আইনের আওতায় আসুক।”
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, “যে কোনো হত্যার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একজন আইনজীবীর হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার আরও জরুরি।
“কারণ আইনজীবীরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।”
আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল বারী বলেন, “আইনজীবী আলিফ ছিলেন উদ্যমী ও মেধাবী তরুণ। উনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আইনের মানুষ যদি নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? তাই দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়ে কোনোরূপ বিলম্ব আমরা মেনে নেব না।”
আলিফ হত্যা মামলায় সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি রাখেন তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আশারাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভুঁইয়া, স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট রওশন আরা বেগম, অ্যাডভোকেট ফৌজুল আমিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হোসাইন মো. আশরাফ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মোরশেদ আলম, সাইফূল আবেদীন, কবির হোসাইন, আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক তারিক আহমদ ও সদস্য সচিব আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ।
মানববন্ধনে উপস্থিত আইনজীবীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্লোগান দেন। মানববন্ধনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবীরা অংশ নেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেছিলেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৮ জন এখনো পলাতক জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মালামাল ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রতিবেদন আসার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
“তারপর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দায়রা জজ আদালতে যাবে। সেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হবে।”
আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য আছে।