Published : 18 Jun 2026, 08:00 AM
‘বয়স হয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, মাঠে তার সেই চেনা দাপট অনেক আগেই গত হয়েছে’- এমনটা যারা বলে থাকেন, তাদেরকে ভুল প্রমাণ করার মতো বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি তিনি। উল্টো ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ডি-বক্সে তার নিষ্ক্রিয়তা নতুন করে প্রশ্নেরও জন্ম দিচ্ছে। তবে, কেবল অধিনায়কের সমালোচনা করার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস।
হিউস্টনে বুধবার রাতে শুরুটা দারুণ হয়েছিল পর্তুগালের, জোয়াও নেভেসের হেডে ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু এরপর, পুরোপুরি নিজেদের হারিয়ে ফেলে দলটি। তাদের বিবর্ণতার সুযোগ নিয়ে বিরতির আগে সমতা টানেন ইয়োয়ান উইসা।
‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্রয়ে শেষ হয়।
ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের মাঝেও দ্বিতীয়ার্ধে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দুটি সুযোগ পান রোনালদো। কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে একবারও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে খেলতে নেমে বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলারের রেকর্ড গড়া তারকা।
রোনালদোর প্রথম সুযোগটি নষ্টের সময় ঠিক তার পেছনেই ছিলেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেস। তার চোখে-মুখে হতাশা তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে কমপক্ষে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় খেলা ফুটবলারদের মধ্যে বলে সবচেয়ে কম স্পর্শ রোনালদোর (২৫)।
তবে, ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আলাদা করে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে চাইলেন না কোচ মার্তিনেস। তিনি বরং রোনালদোর ‘কাঁধে হাত রেখে’ পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়েই হতাশার কথা শোনালেন।
“মাঠে উপস্থিত সব খেলোয়াড়কেই আমাদের কাজে লাগাতে হবে। মূল ফরোয়ার্ডকে (রোনালদো) ছয় গজ বক্সের কাছাকাছি থাকতে হবে এবং তার কাছে আমাদের বল পৌঁছাতে হবে।”
লিওনেল মেসির পর, এই ম্যাচ দিয়েই দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়েন রোনালদো। তবে বিশেষ উপলক্ষে আশাব্যাঞ্জক কিছু করতে পারেননি তিনি।
রোনালদোকে তুলে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড গোলদাতার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন কোচ।
“এমন একটা ম্যাচে যেখানে গোল দরকার, সেখানে ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে উঠিয়ে নেওয়ার কোনো মানেই হয় না।”
“এমন মুহূর্তে, ডি-বক্সে ক্রিস্তিয়ানোর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে সে ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখে, এবং তাতে আমরা যে ফাঁকা জায়গা পাই, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।”
বয়সের ভারে স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর গতি কমেছে। এখন আর তিনি উইঙ্গার হিসেবেও খেলেন না। তবে নিয়মিত গোল তিনি ঠিকই করেন, আল নাস্রের হয়ে এবারের সৌদি লিগ জয়ের পথেও দলের সর্বোচ্চ ২৮টি গোল করেন তিনি।
এরপরও, জাতীয় দলে তাকে শুরু থেকে খেলানো উচিত নাকি বদলি হিসেবে, এই বিতর্ক অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে মার্তিনেসের মতে, তার দলে গোলের জন্য রোনালদোকেই দরকার, যদিও দলটিতে আক্রমণভাগে প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কমতি নেই।
“মাঠে সব খেলোয়াড়েরই দায়িত্ব আছে অথবা বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। এবং আমাদের যখন গোল দরকার, তখন ক্রিস্তিয়ানোকে দরকার।”
গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে পর্তুগাল। এরপর, আগামী ২৭ জুন শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।