Published : 27 Jul 2026, 11:27 PM
ছয় মাস আগে কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নে ১৪ বছরের জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, পূর্বপরিচিত শিক্ষিকা মীম আক্তারের বাসায় পড়তে গিয়েছিলেন ফাতেমা। সেখানে ‘কথা কাটাকাটি’ থেকে তাকে ‘একাই’ শ্বাসরোধে হত্যা করে মীমের ১৫ বছরের ছোট বোন। এরপর পরিকল্পনা করে ফাতেমার মা রোকেয়াকে মীমের বাসায় ডাকা হয়। প্রমাণ লোপাটে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করেন ১৫ বছরের সেই কিশোরী, বোন মীম ও দুলাভাই হুমায়ুন কবীর।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কালিন্দীর মুক্তিরবাগ এলাকায় মীমের বাসায় ওই ঘটনা ঘটে।
স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ না পেয়ে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় জিডির পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি মামলা করেন শাহিন আহমেদ। হত্যার ২১ দিন পর ১৫ জানুয়ারি সেই বাসা থেকে অর্ধগলিত লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই রনী চৌধুরী গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান আগামী ২৫ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণের দিনধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. আলমগীর হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে মীম আক্তার, তার স্বামী হুমায়ুন কবীরকে আসামি করা হয়েছে। কিশোরী হওয়ায় মীমের ছোট বোনের নামে দেওয়া হয়েছে দোষীপত্র। মীম ও তার বোন আদালতে ‘দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বাদী শাহিন আহমেদ বলেন, “স্ত্রী-সন্তান হত্যার বিচারের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত দৌড়াতে দৌড়াতে আমি ক্লান্ত। কত বাহানার পর ছয় মাস পর চার্জশিট দিয়েছে। তবুও সন্তুষ্ট।”
শাহিন আহমেদের প্রথম স্ত্রী রোকেয়া রহমান। রোকেয়া মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে শাহিন পাশেই নিজের বাড়িতে থাকতেন।
শাহিন বলেন, “মেয়েটার স্কুলে যাতায়াতের জন্য বাসাটা ভাড়া করে দিয়েছিলাম। ওদের মা-মেয়ের জন্যও দুই কাঠা জমি কিনেছিলাম বাড়ি করার জন্য। কিন্তু তার আগেই তো তারা খুন হল।
“আমি তো আর আমার স্ত্রী-সন্তানকে ফিরে পাব না। মামলার বিচারটা যেন দ্রুত শেষ হয়। আসামিদের ফাঁসি চাই৷ ফাঁসি হলে কিছুটা শান্তি পাব।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রোকেয়া রহমানের পূর্বপরিচিত ছিলেন শিক্ষিকা মীম আক্তার। একে অপরের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। রোকেয়া জিম্মাদার হয়ে মীমকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতেও সহায়তা করেছিলেন। মেয়ে ফাতেমার বিভিন্ন বিষয়ে মীমের সহযোগিতা নিতেন রোকেয়া। তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মনোমালিন্যও হয়েছিল।
২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর মীমের বাসায় যান রোকেয়া। সেদিন মীমের স্বামী বাসায় থাকায় তিনি চলে যান।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার পর পড়ালেখার ব্যাপারে মীমের বাসায় যায় রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা। সেখানে মীমের বোনের সঙ্গে ফাতেমার কথা কাটাকাটি হয়। মীমের বোনকে ‘খারাপ মেয়ে’ বলে গালি দিয়ে ‘গায়ে হাত তোলে’ ফাতেমা। এ কারণে মীমের বোন ‘একাই’ তাকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে ফাতেমাকে হত্যা করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মীম তার বোনের কক্ষে ঢুকে ফাতেমার মরদেহ দেখতে পান। এরপর তারা ঘটনা ঢাকার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ফাতেমার পোশাক খুলে সেগুলো পরে বাইরে যায় মীমের বোন। সঙ্গে ব্যাগে নিয়ে যায় বোরখা। এরপর বাইরে থেকে পরনের জামা-কাপড় পাল্টে বোরখা পরে বাসায় ঢোকে মীমের কিশোরী বোন।
ফাতেমা যে মীমের বাসায় গেছে, সেটি জানতেন তার মা রোকেয়া রহমান। সে কারণে রোকেয়াকেও বাসায় ডেকে তিনজন মিলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর রোকেয়ার লাশ খাটের নিচে এবং ফাতেমার লাশ বাথরুমে ছাদে লুকিয়ে রাখা হয়।
পরবর্তীতে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে আশেপাশের লোকজনের খবরে পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “হত্যাকাণ্ডে তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই মামলাটি যেন দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা হয় “