Published : 12 Oct 2025, 09:40 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবাখাতের নতুন মাশুল কার্যকর হওয়ার দুই দিন আগে তা স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আলোচনায় বসার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা।
বিদেশি অপারেটরদের ‘সুবিধার’ জন্য মাশুল বাড়ানো হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন।
রোববার দুপুরে হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে ‘চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ’ এর ব্যানারে আয়োজিত সমন্বয় সভা থেকে এ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদেশি অপারেটররা চায় ট্যারিফ বাড়িয়ে দেওয়া হোক। যারা তাদের নেপথ্যে আছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বন্দরের বর্ধিত মাশুল স্থগিত রেখে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সকল ধরনের মাশুল বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বন্দরের বিভিন্ন সেবার মাশুল ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বন্দর ব্যবহারকারীদের আপত্তির মুখেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ মাশুল বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন বন্দরের নতুন মাশুলের হার একমাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এখন তা ১৪ অক্টোবর রাত থেকে কার্যকর হবে।
বাড়তি মাশুল কার্যকর হলে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম চেম্বারের আরেক সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বন্দরের বাড়তি মাশুল পরিশোধ করবে দিনমজুর, শ্রমিক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জনগণ।
“বিদেশি অপারেটরদের সুবিধার জন্য মাশুল বাড়ানো হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড, মায়ের্সক লাইনের পেছনে কারা, এজেন্ট কারা, অফিসে কারা যায়, আমাদের কাছে খবর আছে।”
তিনি বলেন, মোংলা ও পায়রা বন্দরে মাশুল বাড়ানো হয়নি, বাড়ানো হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।
“কোনো কোনো খাতে ছয়গুণ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানো হয়েছে।”
তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় তিনি বন্দরকে কখনো লোকসান করতে দেখেননি। তাহলে বন্দরে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ কেন বাড়াতে হবে? ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচ কতটুকু নিতে পারবে সেটা বিবেচনা করা হয়নি।
স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ এর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম বলেন, সংকট নিয়ে আজকের সভা। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। বন্দর ব্যবসা করে না, সেবা দেয়। বন্দরের মাশুল এক মাসের জন্য পিছিয়েছে।
তিনি বলেন, “ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে আমরা ভালো অবস্থানে নেই। আমরা চাই না বন্দর লোকসান করুক। আমরা এটাও চাই না বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ি।”
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বন্দরের মাশুল বাড়ানো নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
“আমরা বলেছি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়াতে। ১৯৮৬ সালে ডলার ছিল ৩০ টাকা। এখন ডলারের দাম চার গুণ বেড়েছে। শিপিং এজেন্ট ফ্রেইট বাড়িয়েছে। ৪১ শতাংশের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। ২০ ফুটের কন্টেইনারে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা বাড়তি পরিশোধ করতে হবে।”
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, “নতুন বর্ধিত মাশুল কার্যকর হলে ক্রেতারা তৈরি পোশাক নেবে না। ভিয়েতনাম ও ভারতে চলে যাবে তারা।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর টার্মিনাল এবং ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি অপারেটরদের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ।
তিনি বলেছেন, এর মধ্যে লালদিয়ার চর টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে ৩০ বছরের জন্য, আর বাকি দুই টার্মিনাল পরিচালনার মেয়াদ হবে ২৫ বছর।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের ‘অস্বাভাবিক মাশুল বৃদ্ধির’ প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সমন্বয় সভা ডাকেন।
আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিজিএমইএ এর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও এস এম আবু তৈয়ব, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
আরও পড়ুন:
ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ টার্মিনালের দায়িত্বে বিদেশি অপারেটর: নৌসচিব
বছর শেষে বন্দরের তিন টার্মিনালে নতুন অপারেটর: বিডা চেয়ারম্যান
বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক অপারেটর: সাখাওয়াত
বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের কাছে 'হস্তান্তর ঠিক না': মির্জ্জা আজিজ