Published : 15 Sep 2025, 10:57 PM
বন্দর ব্যবহারকারীদের আপত্তির পরও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবাখাতের মাশুল বা ট্যারিফ কার্যকর হয়েছে; যা একলাফে গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
সোমবার থেকে নতুন হারে মাশুল নেওয়ার কথা বলেছেন বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক।
দীর্ঘদিন পর মাশুল বাড়ানোর এ প্রজ্ঞাপন রোববার মধ্যরাতে জারি করে দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর। এর আগে গত ২৪ জুলাই শেষ সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।
মাশুল বাড়ানোর খবর সামনে আসার পর বন্দর ব্যবহারকারীরা এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তারা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি করেছিলেন।
তাদের দাবি, উচ্চহারে নতুন মাশুল কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তা পর্যায়ে চাপ বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নতুন হিসাবে প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার পরবিহনের ক্ষেত্রে বাড়তি মাশুল দিতে হবে চার হাজার চারশ টাকার মত।
বন্দর সচিব বলেন, বিভিন্ন সেবাখাত হিসেবে মাশুল ৩০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ১৯৮৬ সালের পর মাশুল বাড়ানো হলো। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানকে হিসেবে নিলে মাশুল খুব বেশি বাড়ছে না।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খাইরুল আলম সুজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এমন উচ্চ হারে মাশুল বাড়ানোর কারণে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ বেড়ে যাবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের সব ধরনের মাশুল ১৯৮৬ সালে নির্ধারণ করার পর সেভাবে আর বাড়ানো হয়নি। শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় পাঁচটি মূল ট্যারিফ আইটেমের ফি বাড়ানো হয়েছিল।
এর আগে ১৯৯৬ ও ২০১২ সালে দুই দফা তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও চূড়ান্ত হয়নি।
দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় পণ্য বা কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসার পর থেকে সেগুলোকে দেওয়া সেবার বিপরীতে ট্যারিফ বা মাশুল নিয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি, কন্টেইনার পরিচালনাকারী কোম্পানি এবং আমদানি ও রপ্তানিকারকরা এসব মাশুল দিয়ে থাকে। জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে শিপিং এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের পক্ষ হয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব মাশুল পরিশোধ করে থাকেন।
২০২০ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে মাশুল বাড়ানোর কাজ শুরু করে এবং স্পেনভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্যারিফ হালনাগাদ করে বন্দরের কাছে ২০২২ সালে জমা দেয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনার পর মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
পরে ২৪ জুলাই বন্দরের মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। পরে সেটি যাচাই করে গেজেট প্রকাশের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল, ব্যবসায় প্রভাব পড়ার শঙ্কায় ব্যবহারকারীরা