Published : 04 Jul 2026, 03:18 PM
পুরো ম্যাচ যিনি পোস্ট সামলেছেন, সেই প্যাট্রিক বিচকে টাইব্রেকারের আগে তুলে নিয়ে সবাইকে চমকে দেন টনি পপোভিচ। অস্ট্রেলিয়া কোচের এমন সিদ্ধান্তে অবাক সতীর্থের বদলি নামা গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানও।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পপোভিচ। কিন্তু তার সেই ‘জুয়া’ কাজে লাগেনি। পেনাল্টি শুটআউটে মিশরের একটি শটও ঠেকাতে পারেননি রায়ান। এমনকি শটের দিকও বুঝতে পারেননি তিনি।
ডালাসে শুক্রবার শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়।
ম্যাচ শেষে বিচ বলেন সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে তাকে আগে থেকে কিছু বলা হয়নি।
“এ বিষয়ে জানতে কোচের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আপনারা যখন জেনেছেন, আমিও তখনই। অবশ্যই কোনো পরিকল্পনা ছিল, সেটা আগে থেকে আমাদের জানানো হয়নি।”
ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াচ্ছে নিশ্চিত হতেই নিয়মিত গোলরক্ষক বিচকে তুলে অভিজ্ঞ রায়ানকে মাঠে নামান পপোভিচ। অথচ ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেভসহ মোট তিনটি চমৎকার সেভ করে অস্ট্রেলিয়ার আশা টিকিয়ে রাখেন বিচ।
নিজেদের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা করেন পপোভিচ।
“এটা কাজে দেয়নি, তাই অনেক কারণ খোঁজে যেতে পারে। তবে ম্যাটির অভিজ্ঞতা ও তার পেনাল্টি ঠেকানোর রেকর্ড বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। জাতীয় দল তো বটেই, প্যাট্রিক ক্লাব ফুটবলেও একদম নতুন।”
“আমাদের মনে হয়েছে, ম্যাটির অভিজ্ঞতা পার্থক্য গড়ে দেবে। শেষ পর্যন্ত, এটা সেভাবে কাজে দেয়নি; তবে সেটা ম্যাটির দক্ষতার অভাব বা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য নয়। মিশর সত্যিই দুর্দান্ত পেনাল্টি শট নিয়েছে।”
‘দলের স্বার্থে যেকোনো ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত’ বিচ বলেছেন, কোচের প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না রায়ানও, মিক্সড জোনে বলেন তিনি।
“না, না, ম্যাচের আগে আমাকেও কিছু বলা হয়নি। অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার পর আমাকে আর পল ইজ্জোকে ওয়ার্ম-আপ করতে বলা হয়। আর অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আমাকে প্রথম জানানো হয় যে, কোনো বদলি বাকি থাকলে একদম শেষ মুহূর্তে আমাকে নামানো হবে।”
কেবল গোলরক্ষক পরিবর্তনই নয়, পেনাল্টি শুটআউটের শট নেওয়ার জন্য খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়েও সমর্থক ও বিশ্লেষকদের তোপের মুখে পড়েছেন পোপোভিচ। নেস্তরি ইরানকুন্ডা এবং ক্রিস্টিয়ান ভলপাটোর মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের তিনি আগেই মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শট নিতে এসে ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার বল গ্যালারিতে উড়িয়ে মারেন। এরপর জ্যাকসন আরভিন এবং অ্যাওয়ার মাবিল গোল করে আশা বাঁচিয়ে রাখলেও, চতুর্থ শটের জন্য পপোভিচ বেছে নেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হ্যারিংটনকে। কিন্তু তার নেওয়া শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং মিশর তাদের চতুর্থ গোলটি করে জয় নিশ্চিত করে।
পেনাল্টি শুট নিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হ্যারিংটনের উপর আস্থার কথা বলেন পপোভিচ।
“ছেলেটা গোল করলে নিশ্চয়ই আপনারা অন্য কথা বলতেন। তখন হয়তো বলতেন, ১৮ বছরের একটা ছেলে পেনাল্টি শুট নিয়ে গোল করেছে-কী চমৎকার ব্যাপার! প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলিয়েছি, যেখানে আমাদের ফল দরকার ছিল, যে ম্যাচে বিদায়ের ঝুঁকি ছিল। তাহলে পেনাল্টির ক্ষেত্রে পার্থক্যটা কোথায়?”
নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে বল জালে পাঠাতে না পারা হ্যারিংটন বলেন, সবাই তাকে দেখে অবাক হয়েছিল বুঝতে পারছেন তিনিও।
“কোচিং স্টাফ এবং দলের সবাই আমার পাশে ছিল। আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কোথায় বল মারতে চাই সেটাও জানতাম। নিজের নিয়ম মেনেই শট নিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা গোল হয়নি। আমি কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাব এবং আশা করি আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসব।”