Published : 25 Jul 2025, 06:27 PM
বন্দর পরিচালনায় বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ‘পেছনে পড়ে আছে’ মন্তব্য করে দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) কার্যক্রম পরিদর্শন করে তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের বন্দরগুলো দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছি ঠিকই। বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে তুলনা করলে আমরা অনেক পেছনে রয়ে গেছি।
“সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ পোর্টই প্রাইভেটে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু সিঙ্গাপুর না, আমি ইংল্যান্ডে গিয়েছি সেখানেও দেখেছি। আমাদের দক্ষতা বাড়াতে হলে বাহিরের টেকনোলজি আনতে হবে। আমরা নিজেরা নিজেরা করছি ঠিকই, নিজেদের অনেক ইফিসিয়েন্সি আছে। আর এটা অর্জনের জন্য আমাদের দরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রবেশ করা।”
এনসিটির কার্যক্রম পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত। তিনি বলেন, “একটা পোর্ট তখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রবেশ করবে, যখন আন্তর্জাতিক অপারেটর নিযোগ করা হবে।”
এনসিটির পরিচালনাকারী সাবেক কোম্পানি সাইফ পাওয়ারের প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, “গত ১৭-১৮ বছর ধরে এনসিটি ও আরেকটি টার্মিনাল পরিচালনাকারী এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি ভালো কাজ করেছে। তবে সরকার এখন তাদের তুলনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “কেউ পারমানেন্টলি কেউ থাকে না। কেউ না কেউ রিপ্লেস করে, কাজেই তাদেরকেও ধন্যবাদ।”
গত ৭ জুলাই থেকে ছয় মাসের জন্য এনসিটি পরিচালনা শুরু করছে নৌবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড। পরবর্তীতে দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হবে বলে আলোচনা রয়েছে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ এনসিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আগামীতে যে অপারেটর নিয়োগ পাবে, তার অধীনে এই উন্নয়ন ধারাবাহিক থাকবে আশা করি।”
বন্দরের মাশুল বাড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় এককভাবে মাশুল বাড়ায়নি। আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান বন্দরের চেয়ে এখনও চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল অনেক কম।”
চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, “ড্রাইডক এনসিটির দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী ১৭ দিনে জাহাজের ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ (গড় অবস্থানকাল) গড়ে ১০ ঘণ্টা কমে এসেছে, হ্যান্ডলিংয়ে (কন্টেইনার) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ।”
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এসময় উপস্থিত ছিলেন।