১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চেরাগী মাতালো ‘দেশের গান, দশের গান’

“আগে ‘চেরাগি ওয়ান আওয়ার’ নামে নিয়মিত একটি গানের আসর হত। মাঝে নানা কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই স্মৃতিকেই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”

চেরাগী মাতালো ‘দেশের গান, দশের গান’
চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড়ে লুসাই ভবনের সামনের সড়কে সংস্কৃতি কর্মীদের আয়োজনে এক ঘণ্টার গানের আসর ‘দেশের গান, দশের গান’ এর প্রথম আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ‘কৌশিক অ্যান্ড ফ্রেন্ডজ’ এর শিল্পীরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 10:59 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:34 PM

সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চেরাগী পাহাড় জমে উঠল গানের সুরে। 

শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন সংস্কৃতি কর্মীর উদ্যোগে ‘দেশের গান, দশের গান’ শিরোনামে ভিন্ন ধর্মী এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বহুদিন পর চেরাগীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফিরল। 

শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী, সংগঠক, সাংবাদিক, নানা পেশাজীবী আর তরুণদের আড্ডায় অন্য এক আবেশ নিয়ে হাজির হলো গান। চেরাগী পাহাড়ের লুসাই ভবনের সামনের সড়কে বসেছিল এই গানের আসর। 

‘কৌশিক অ্যান্ড ফ্রেন্ডজ’ এর শিল্পীরা শুরুতে গাইলেন কুমার বিশ্বজিৎ এর ‘তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইও না, একতারা বাজাইলে মনে পড়ে যায়, একদিন বাঙালি ছিলাম রে’। 

ঢোলের তালে তালে দুলতে দুলতে সেই গানের সুরে গলা মেলালেন সমবেতরা।  

এরপর একে একে তারা গাইলেন- ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘আমার মন মজাইয়ারে’, ‘মায়া লাগাইছে’ ও ‘আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা’। 

ততক্ষণে সামনে রাখা কয়েক সারি চেয়ার ভরে গেছে। গান শুনতে পথ চলতি লোকজনও জড়ো হয়েছে। কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউ পাশের ভবনের সিঁড়িতে বসে গান শুনতে শুরু করেন। 

এরপর শিল্পী কৌশিক দত্ত বলেন, “এবার সবাই মিলে কয়েকটা দেশের গান গাইব। আশা করি আপনারাও আমাদের সাথে গলা মেলাবেন।” 

তারপর তারা গাইলেন ‘ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’। 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক সুকান্ত চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৭-৮ বছর আগে ‘চেরাগি ওয়ান আওয়ার’ নামে নিয়মিত একটি গানের আসর হত। মাঝে নানা কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই স্মৃতিকেই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। 

“এখন আমাদের অনেকের সন্তানরাও গান-বাজনা করেন। মানে পরের প্রজন্মও চলে এসেছে। তাদের একটু সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা। আমরা চাই, মানুষ এক ঘণ্টার জন্য হলেও সব ব্যস্ততা ভুলে শুধু গান শুনুক, একসঙ্গে থাকুক।”

২০২৩ সালে চ্যানেল আইয়ের ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শিল্পী কৌশিক দত্ত বলেন, “মানুষের এত কাছাকাছি থেকে গান করতে পারাটা এক সুন্দর অনুভূতি।” 

এই আয়োজনের অন্যতম সংগঠক শৈবাল পারিয়াল বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম গান-বাজনা ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে থাকুক। আয়োজনটি প্রতি মাসে একবার বা দু’বার করে করার ইচ্ছে আছে।” 

সবশেষে প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলার গান গাই’ গাইলন শিল্পীরা। পথ চলতি এক বৃদ্ধাও পরিচিত গানের সুরে থমকে দাঁড়ালেন। এই গানের সাথেই শেষ হল ঘণ্টাব্যাপী আয়োজন।