চট্টগ্রামে জিয়ার প্রথম সমাধিতে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “ইতিহাসকে বিকৃত বা আড়াল করা গেলেও মুছে ফেলা যায় না।”
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং সমাধি সংলগ্ন এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটির ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রশিক্ষণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সমাজকল্যাণমন্ত্রী সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন বলেও তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, “ইতিহাসকে বিকৃত বা আড়াল করা গেলেও মুছে ফেলা যায় না।”
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। তাকে প্রথমে তড়িঘড়ি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকায় দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তার মরদেহ ঢাকায় স্থানান্তর করে শেরেবাংলা নগরে সমাহিত করা হয়।
রাঙ্গুনিয়ার ওই স্থানটি স্থানীয়দের কাছে ‘জিয়ানগর’ নামে পরিচিত। প্রতিবছর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, “১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১নম্বর সেক্টরের প্রথম সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীতে ‘জেড ফোর্স’ এর অধিনায়ক হিসেবে বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, যা ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।”
পরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ‘সুদৃঢ় করেন’ বলে মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায়, কৃষি, শিল্প, রপ্তানি, প্রবাসী কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাক শিল্প ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ভিত রচনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে ‘ঐক্যবদ্ধ’ করেছেন দাবি করে জাহিদ হোসেন বলেন, “নির্বাচনের পর জনগণের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় নেতাদের প্রণোদনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নমুখী বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
