৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

এসএসসিতে জালিয়াতি: পরীক্ষার খাতায় দুই বিষয়ে শূন্য, প্রকাশিত ফলে ৪৫

ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় দশ বিষয়ে ফেল করার পরও প্রকাশিত ফলাফলে নম্বর পাল্টে তাকে পাস করানো হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 06:57 PM

Updated : 30 Oct 2026, 06:57 PM

এসএসসির দুটি বিষয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও, প্রকাশিত ফলাফলে নম্বর এসেছে ৪৫! খাতা পুনঃনিরীক্ষণে এ জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরার পর এক পরীক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় বৃহস্পতিবার মামলাটি করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।

আসামিরা হলেন- শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন, শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের ৩ কর্মচারী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান।

মামলায় শোভন নামে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষায় দশ বিষয়ে ফেল করার পরও প্রকাশিত ফলাফলে তার নম্বর পাল্টে পাস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর জন্য শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের ৩ কর্মচারীকে দায়ি করেছে শিক্ষা বোর্ড।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমরা তদন্ত করছি।”

বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, হাসিবুল আলী শোভন এ বছর আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। গত ১০ অগাস্ট এ বছরের প্রকাশিত পরীক্ষার ফলে দেখা যায় শোভন সব বিষয়ে পাস করেছে।

ফল ঘোষণার পরদিন ১১ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ ছিল। সে সময়ই শোভনের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন আসে।

মামলার বাদি ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সময় খাতার নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরের মিল না থাকায় পরীক্ষক বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করেন। এরপর আমরা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে ওই শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের ঘটনা দেখতে পেয়েছি।

“এ প্রেক্ষিতে পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুযায়ী কলেজ ভর্তির আগেই তার ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলা করার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।”

মামলায় ওই শিক্ষার্থীর প্রকাশিত ফলাফলে ১১টি পত্রে সৃজনশীল অংশে নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অভিযু্ক্ত শিক্ষার্থী বাংলা ১ম পত্রের উত্তরপত্রে ২৩ নম্বর পেলেও প্রকাশিত ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৩৩ আর ২য় পত্রে ২৪ এর স্থলে নম্বর দেখান হয়েছে ৬২। ইংরেজি প্রথমপত্রের উত্তরপত্রে ৩৩ পেলেও ফলাফলে দেখান হয়েছে ৮৩, ২য় পত্রে ২০ এর স্থলে নম্বর ৮২ দেখান হয়। গণিতের উত্তরপত্রে ৯ নম্বর পেলেও ফলাফলে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭ এর জায়গায় ৬৪, উচ্চতর গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে ০ পেলেও ফলাফলে যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৫, জীববিজ্ঞানের উত্তরপত্রে ১ পেলেও এর পরিবর্তে ফলাফলে ৪৬ এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলী ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ৪ এর স্থলে ৬৫ নম্বর বসানো হয়েছে।

এরআগে ২০২৩ সালে একইভাবে ছেলের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নগরীর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে অংশ নেন নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ। পরে তার ছেলের জিপিএ-৫ প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন শিক্ষক। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়।

কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে নক্ষত্র দেবের ফলাফল বাতিল করা হয়। সে সময় তদন্ত কমিটি নারায়ণের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিল। এর ভিত্তিতে মামলার পর অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুরনো খবর:

ছেলের ফল জালিয়াতি: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিবসহ ৪ জনের নামে মামলা
জালিয়াতি: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিবের ছেলের ফল বাতিল