এইচএসসি: চট্টগ্রাম বোর্ডে এক বিষয়ে ফেল ২২ হাজার, তিন কলেজে পাস করেনি কেউ
এবার চট্টগ্রামের বোর্ডের অধীনে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২২ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী।
এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শনিবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “তিনটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। তিনটি কলেজ হল- মেরন সান কলেজ, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কক্সবাজার।”
এর মধ্যে মেরন সান কলেজ থেকে দুজন, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অর্থাৎ এই তিন প্রতিষ্ঠানের মোট নয়জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে, এবার বোর্ডের অধীনে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৩৪ জন), ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (৪৪ জন), কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৭ জন), কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬০ জন), রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ছয়জন) এবং লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ছয়জন)। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ২৬৭ জন পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অকৃতকার্য হয়েছে ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। তাদের মধ্যে ২২ হাজার ১১৪ জন মাত্র একটি বিষয়ে ফেল করেছে। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল ২৪ হাজার ৬৫৪ জন।
কোন বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেলের হার একটু বেশি হয়েছে। অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যতটুকু পারে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিচ্ছে। এটা একটা বড় সমস্যা।
“অনেক কলেজে আইসিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পড়াশোনা করাচ্ছে। আর ইংরেজি ১২ বছর পড়াশোনা করার পরও আমরা এখনো অনেক দুর্বল। ইংরেজিতে পারদর্শিতার অভাব আছে।”
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮২টি কলেজে পাসের হার ১০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। আর ৮২টি কলেজে পাস করেছে ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
