Published : 28 Dec 2025, 01:10 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে রাউজানের গহিরা বাজারে একটি কাপড়ের ভ্যানে আগুন দেওয়ার সময় কেরোসিনের বোতলসহ মো. মোরশেদুল আলম (৫৫) হাতেনাতে ধরা হয়।
মোরশেদুল গহিরা এলাকার বাসিন্দা।
ওসি সাজেদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধরার পর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ব্যানারও জব্দ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।”
মোরশেদুলকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি সাজেদুল জানিয়েছেন।
রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার ভোরে বাইরে থেকে দরজা আটকে একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে ভোর রাত সোয়া ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে। বাড়িটি কাতার প্রবাসী সুখ শীল নামের এক ব্যক্তির। সেখানে তার বোন ও বোন জামাই অনিল শীল থাকেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ির কাছ থেকে পুলিশ হাতে লেখা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ব্যানার জব্দ করে।
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর ভোর রাতে একই কায়দায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা আটকানো থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
দুটি বসতঘরই দরজার বাইরে থেকে কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। আর উঠানে কেরোসিন লাগানো কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
রাউজানে হিন্দু বাড়িতে আগুন, জড়িতদের তথ্য দিলে পুরস্কার
এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই দিনও উঠান থেকে কেরোসিন মিশ্রিত কাপড়, বিভিন্ন নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতনদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বুধবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার সুলতানপুর ৫ নম্বর আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ অনিল শীলের বসত ঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগকারীদের ধরিয়ে দিলে আর্থিক পুরস্কার দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নিজেদের ফেইসবুক পেইজে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মোরশেদুল আলমসহ আরও কিছু ব্যক্তি সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান এলাকায় নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ঘটায়।
আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মোরশেদুল আলম ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন বলেও জানানো হয় পোস্টে।