Published : 23 Dec 2025, 02:34 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ভোরে পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে গত পাঁচদিনে উপজেলার তিনটি এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে, সেসবের প্রত্যেকটিই হিন্দু পরিবারের।
প্রত্যেকটি অগ্নিকাণ্ডের পর কেরোসিন লাগানো কাপড় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের নাম-মোবাইল নম্বরসহ হাতে লেখা কাগজ জব্দ করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবারের ঘটনাটি ঘটেছে ভোর রাত সোয়া ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে। এর আগে শনিবার ঢেউয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবং শুক্রবার কেউটিয়া ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একই কায়দায় আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেসব ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেসব টিনের চাল ও বেড়ার বসত ঘর বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি বসতঘর পুড়েছে।
“ভুক্তভোগীদের দাবি, বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা সেখান থেকে বিভিন্ন জনের নাম লেখা একটি ব্যানার জব্দ করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার আগুন দেওয়া বাড়িটি কাতার প্রবাসী সুখ শীল নামের এক ব্যক্তির। সেখানে তার বোন ও বোন জামাই অনিল শীল পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
ভোর রাতে আগুন দেখে অনিল শীল ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা লাগানো দেখতে পান। এসময় তিনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরের বেড়া কেটে বের হয়ে আসেন। প্রতিবেশী ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভান। আগুনে দুটি ঘর পুড়ে গেছে।

এদিকে গত শনিবার ভোর রাতে একই কায়দায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা আটকানো থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
দুটি বসতঘরই দরজার বাইরে থেকে কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। আর উঠানে কেরোসিন লাগানো কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসত ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই দিনও উঠান থেকে কেরোসিন মিশ্রিত কাপড়, বিভিন্ন নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতনদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল বলেন, “মঙ্গলবার ভোরের মত একই কায়দায় আগের ঘরগুলোতে আগুন দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।”
রাউজানের ইউএনও এস এম রাহাতুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি। পাড়া-মহল্লায় কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করবে।”
ইউএনও বলেন, “বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারব এগুলো কেন হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খাঁনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।