Published : 07 Jun 2026, 09:25 PM
চট্টগ্রাম নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত ‘মহাপরিকল্পনা’ তৈরির কাজ চলার তথ্য দিয়েছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেছেন, এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ট্রাফিক পরিস্থিতি ও যাত্রী চাহিদা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে যে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে।
রোববার চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এদিন ডিটিসিএর প্রতিনিধি দল নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার ও অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে।
মশিউর রহমান জানান, ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া (সিএমএ)’ প্রকল্পের অধীনে এই মহাপরিকল্পনা করা হবে।
নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চাহিদার উপর নির্ভর করে তিনটা ভাগ করা হয়। ডিমান্ড বেশি থাকলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং ডিমান্ড কম হলে আমরা মনোরেলে যাব।
“আমরা এখনো ওই ডিসিশানে যেতে পারিনি। আপাতত আমরা মাস্টারপ্ল্যানটা নিয়ে কাজ করতেছি।”
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকমের দৃশ্যপট দেখছি। কোনো রুট হয়ত হাই ডিমান্ড, সেখানে হয়ত মেট্রোতে যেতে হবে। আবার কোনো রুট একটু মিডিয়াম, সেটা লাইট রেলে যেতে হবে। আর কোনো রুটে কম ডিমান্ড হলে সেখানে মনোরেলে যাব।
“আমরা সিটি করপোরেশন থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছি। সেটা আমরা সরেজমিন দেখে যাচাই করে একটা মতামত দিব। এজন্য ডিটিসিএর পক্ষ থেকে আমরা এসেছি।”
তিনি বলেন, “যেটা দেখতে পাচ্ছি, দুয়েকটা রুট অবশ্যই মনোরেল হবে। কোন রুটটা মনোরেল হবে আর কোন রুটটা মেট্রোরেল হবে, সেটা ডিমান্ড অ্যানালাইসিস সম্পন্ন করে সিদ্ধান্ত দিতে পারব।”
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ডিমান্ড অ্যানালাইসিস ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।
“প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যান ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।”
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, এটাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামে যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।”