Published : 08 Jun 2026, 12:53 PM
ওজন কমাতে অনেকেই ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বেছে নেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘অল্টারনেটিং’ বা পর্যায়ক্রমিক খাওয়া এবং না খেয়ে থাকার একটি নিয়ম। এর লক্ষ্য হল ওজন কমানো, মেটাবলিক বা বিপাকীয় সুস্থতা উন্নত করা এবং প্রদাহ কমানো।
এই পদ্ধতির সাধারণ নিয়মের মধ্যে রয়েছে, ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা এবং বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খাওয়াতে সীমাবদ্ধ থাকা।
অন্য নিয়মে, অনেকে টানা পাঁচ দিন স্বাভাবিক খাওয়া মেনে চলেন। তারপর, পর পর দুদিন ক্যালরি গ্রহণ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন।
যদিও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তবে এর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। গর্ভবতী বা কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন, ডায়াবেটিস থাকলে, এই পদ্ধতি ভালো দেয় না।
এই বিষয়ে ইটদিসনটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন পুষ্টিবিদ আনা রেইসডর্ফ বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু রোগীকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হয়।”
যেভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বিপাকক্রিয়া ও পেশির ভরের ওপর প্রভাব ফেলে
যাদের বয়স ৪০, ৫০ বা এর বেশি, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং তাদের জন্য প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। ফলে পেশির ক্ষয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির ভর বা বিন্যাস এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে কমতে থাকে। এছাড়া, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেটাবলিক রেট বা বিপাকের হার কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, ‘কর্টিসল’ মানে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন বাড়িয়ে দিতে পারে।
যাদের ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করা উচিত নয়
যদিও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কিছু মানুষের জন্য একটি সফল পদ্ধতি হতে পারে। আর এই পদ্ধতির উপকারিতার পেছনে প্রচুর গবেষণার সমর্থন রয়েছে। তবে সবার জন্য সঠিক পন্থা নয়।
“যাদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হচ্ছে, যেমন- মেনোপজ বা পেরিমেনোপজ-এর সময়, উচ্চ মাত্রায় মানসিক চাপ রয়েছে, অথবা যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসের জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, ‘ফাস্টিং’ বা উপবাসের কারণে তাদের ক্যালরি ও প্রোটিন গ্রহণ খুব বেশি কমে যেতে পারে। যা ক্লান্তি, পেশির ক্ষয় বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বাড়িয়ে দেয়", বলেন রেইসডর্ফ।
যাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি
রেইসডর্ফের মতে, “মেনোপজ এবং পেরিমেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী, যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, বিশেষ করে টাইপ-১, যাদের পুষ্টির চাহিদা বেশি- যেমন, ক্রীড়াবিদ এবং যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “এই ধরনের মানুষদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকে এবং তারা আসলে শরীরে জ্বালানি বা পুষ্টি কম গ্রহণের ঝুঁকি নিতে পারেন না।”
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে সমস্যায় পড়া
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া বেশ সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে সেইসব নারীদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করছেন না বা যারা অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে আছেন।
“অনেকে বুঝতেও পারেন না যে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে তারা পর্যাপ্ত খাচ্ছেন না। যতক্ষণ না তারা প্রচণ্ড ক্লান্ত বোধ করেন, তাদের চুল পড়তে শুরু করে, পেশি কমে যায় অথবা ওজন কমা পুরোপুরি থমকে যায়", বলেন রেইসডর্ফ।
উপবাসের সময় যে ধরনের মানসিক ও আচরণগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এর প্রভাবে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনায় আচ্ছন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যে কারণে পরে একবারের বেশি বা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা দেয়। পাশাপাশি খাওয়ার অভ্যাসে বাজে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।”
তাই রেইসডর্ফ বলেন, “কারও কারও ক্ষেত্রে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এর কারণে ‘সব হবে, নয়ত কিছুই হবে না’- এই মানসিকতাকে আরও খারাপ করে তোলে।”
যে কারণে, কোনো ডায়েট পরিকল্পনা শুরু করার আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
শুধু প্রোটিন গ্রহণে ওজন কমে না