Published : 12 May 2026, 06:47 PM
স্বাস্থ্য সচেতন হলে প্রোটিনের মতো উপকারী উপাদানে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই কেউ ওজন কমাতে, কেউ শরীর গঠন করতে, আবার কেউ দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
তবে শুধু প্রোটিন খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালেই শরীর সুস্থ থাকা যাবে, এমন নয়। বরং সঠিক ধারণা ছাড়া অতিরিক্ত বা ভুলভাবে প্রোটিন গ্রহণে কাঙ্ক্ষিত উপকার মেলে না।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো বলেন, “অনেকেই ধারণা ছাড়া প্রোটিন গ্রহণ করেন। ফলে তারা বুঝতেই পারেন না কোন খাবারে আসলে কতটা প্রোটিন রয়েছে।”
ধারণা ছাড়া প্রোটিন গ্রহণের সমস্যা
অনেকেই মনে করেন দিনে ডিম বা মাংস খেলেই যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে বাস্তবে শরীরের প্রয়োজন, বয়স, কাজের ধরন ও শারীরিক অবস্থার ওপর প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়।
এই পুষ্টিবিদের মতে, “কিছুদিন নিজের খাদ্যতালিকা পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় কোন খাবার থেকে কতটা প্রোটিন আসছে। কারণ অনেক সময় মনে হয় যথেষ্ট প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে অথচ বাস্তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হতে পারে।”
শুধু প্রোটিন খেলেই পেশি তৈরি হয় না
অনেকেই ভাবেন, বেশি প্রোটিন খেলেই শরীর শক্তিশালী হয়ে উঠবে বা পেশি তৈরি হবে।
তবে শরীরচর্চা ছাড়া শুধু প্রোটিন গ্রহণ করে সেই ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
পেশি গঠনের জন্য শরীরকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হয়। শুধু হাঁটা বা হালকা চলাফেরা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম যেমন- ওজন তোলা, প্ল্যাঙ্ক বা প্রতিরোধমূলক ব্যায়ামও প্রয়োজন।
অন্য পুষ্টিগুণকে অবহেলা করা ঠিক নয়
প্রোটিনের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে অনেকেই খাদ্যতালিকার অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ভুলে যাওয়া চলবে না।
শরীর সুস্থ রাখতে শুধু প্রোটিন নয়- প্রয়োজন আঁশ, স্বাস্থ্যকর চর্বি, শাকসবজি ও ফলমূলও।
এই পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বলেন, “খাদ্যতালিকায় রঙিন ফল ও শাকসবজি থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে।”
“শুধু প্রাণিজ উৎসের প্রোটিনের ওপর নির্ভর করাও সবসময় ভালো নয়। অতিরিক্ত মাংসনির্ভর খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ— দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে” বলেন পুষ্টিবিদ।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নিয়েও ভুল ধারণা
অনেকের ধারণা, নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যতালিকা থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া কঠিন।
তবে ডাল, শস্য, বাদাম, বীজ ও বিভিন্ন সবজিতেও প্রাকৃতিকভাবে ভালো পরিমাণ প্রোটিন থাকে। প্রাণিজ খাবার ছাড়াও প্রতিদিন অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।
সকালের খাবারে ওটস, দুপুর বা রাতে ডাল ও শস্যজাত খাবারের সঙ্গে সবজি রাখলেই প্রোটিনের ভালো উৎস তৈরি হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নাশতাও গুরুত্বপূর্ণ- পরামর্শ দেন আখতারুন নাহার আলো
এছাড়া ফল বা সবজির সঙ্গে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মিলিয়ে খেলে তা শরীরের জন্য আরও উপকারী হয়। যেমন- আপেলের সঙ্গে বাদামের মাখন, গাজরের বা বেরিজাতীয় ফলের সঙ্গে চিজ বা পনির খাওয়া যেতে পারে।
ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই মূল বিষয়
সুস্থ থাকার জন্য শুধু একটি উপাদানের দিকে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়। প্রোটিন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, পর্যাপ্ত পানি ও নিয়মিত শরীরচর্চা থাকলে তবেই শরীর ভালো থাকে।
আরও পড়ুন
প্রতিদিন প্রোটিন কম গ্রহণ করার লক্ষণ