Published : 20 May 2026, 11:23 AM
ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পৌঁছেছে।
বুধবার ভোরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ায় তাদের মরদেহ এসে পৌঁছায়।
মারা যাওয়া চার সহোদর হলেন– স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাদের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়; এরপর এদিন ভোরে চার ভাইয়ের মরদেহ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোরে পর সেখানে প্রতিবেশীসহ দূরদূরান্তের মানুষ ভিড় জমান। এলাকায় তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশভ
রাঙ্গুনিয়ার লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দাফনের জন্য বন্দাররাজা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা হয়েছে চারটি কবর।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চার ভাইয়ের মরদেহ ভোরে বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা ও দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
"জানাজা হবে লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। সেখানে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা আছেন। আমরা জানাজার মাঠের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।"
সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহত প্রবাসীরা প্রতিজন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে জানিয়ে মো. নাজমুল হাসান বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত এই টাকা উনাদের পরিবারকে দেওয়া যায়।"
এই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ এনাম মাকে নিয়ে লালানগরের বাড়িতেই থাকেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের পরিবার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতেই থাকে। এদের মধ্যে সাহেদ সাত মাস আগে বিয়ে করে ওমানে গেছেন।
তাদের ছোট ভাই মো. এনাম বলেছিলেন, তারা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই দীর্ঘদিন ধরে ওমানে ছিলেন। তাদের মধ্যে সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত, ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
“দেশে আসার প্রস্তুতিতে কেনাকাটার জন্য চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে গাড়ির ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়।”

লালানগরের বন্দাররাজা পাড়া এলাকায় দুই বছর আগে দোতলা বাড়ি করেছিলেন এনামের ভাইয়েরা। সেই বাড়িতেই এনাম, তার মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকেন। সেই বাড়িতেই তারা ফিরলেন লাশ হয়ে।
ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মত অবস্থাও তাদের নেই।
পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইন ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমান বলছে, মৃত চারজনেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন নিজওয়ায়, আরেকজন সুওয়াইকে এবং বাকি দুজন মুলাদাহে বসবাস থাকতেন।
দুদিন পর রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দক্ষিণ আল বাতিনা গভর্নরেট পুলিশের নেতৃত্ব আল-মাসনা গভর্নরেট এলাকায় বুধবার রাতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এটির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওমানে গাড়ির ভেতর চার ভাইয়ের লাশ: পুলিশ বলছে মৃত্যুর কারণ কার্বন মনোক্সাইড