১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেভিড ইমনের ‘নির্দেশেই’ লোক ভাড়া করে ডিডিএনে হামলা হয়: র‌্যাব

হামলার জন্য লোক ভাড়া করা হয়েছিল চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট ও রাউজান উপজেলা থেকে; জনপ্রতি দেওয়া হয়েছিল ৫০০ টাকা করে।

ডেভিড ইমনের ‘নির্দেশেই’ লোক ভাড়া করে ডিডিএনে হামলা হয়: র‌্যাব
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার নয় জন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2026, 06:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:41 PM

চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘নির্দেশেই’ চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবার কোম্পানি ডিজিটাল ডটনেটে (ডিডিএন) হামলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। 

শনিবার চট্টগ্রাম নগরী ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলছে, চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট ও রাউজান উপজেলা থেকে লোকজন ভাড়া করে আনা হয় এ হামলার জন্য। তাদের জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈরত হোসেন (১৮), ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজনকে সিসিটিভি ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজনকে সিসিটিভি ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়।

তাদের মধ্যে রোহেন মিয়া হামলাকারীদের সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ছিলেন বলেন র‌্যাবের ভাষ্য। 

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার দুই দিন আগে ডেভিড ইমন ডিডিএন মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না পেয়ে ডেভিড ইমনের নির্দেশে এ হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।”  

হামলাকারীরা এসেছিল কয়েকটি দলে

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার মাইকেল, সানি ও রাজু নামে তিন জন বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করেছিলেন হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য।  

“হামলাকারীরা প্রথমে বহদ্দারহাট এলাকায় জড়ো হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অটো রিকশা নিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় যায়।” 

তিনি বলেন, তাদের একটি দলকে এক্সেস রোডে রাখা হয়েছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজর রাখার জন্য। একটি দল ডিডিএনে গিয়েছিল হামলা করতে। আর কয়েকজন ভবনের নিচে এবং আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের বেশে অবস্থান করেছিল। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ২০ জনের একটি দল ডিডিএন অফিসে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে সিসিটিভি ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের মধ্যে তিন জনকে অন্যদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ধরা হয়।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মহিউদ্দিন।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে মাইকেলকে আটকের পর তার মোবাইলে ঘটনার দিন সাড়ে ১০টার দিকে লোকজনকে সংগঠিত করে ব্রিফিং করার একটি ভিডিও ক্লিপস পয় র‌্যাব। যেখানে ব্রিফিং শুনে লোকগুলো উচ্ছ্বসিত হয়ে ভাঙচুর করতে যেত দেখা যায়। 

র‌্যাব অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডেভিড ইমন ও রায়হান সামনে না এসে তাদের গ্রুপের অন্য কারো মাধ্যমে মাইকেল, সানি ও রাজুকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন লোকজন জড়ো করার জন্য। 

সে অনুযায়ী তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করেন এবং হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। 

একদল এসেছিল অ্যাম্বুলেন্সে করে

এদিকে হামলাকারীদের আটজনের একটি দল অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ওসি নূর হোসেন মামুন। 

তিনি বলেন, শনিবার রাতে রাউজানে অভিযান চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক মো. মহিউদ্দিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

কী ঘটেছিল?

হামলাকারীদের আটজনের একটি দল এই অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। 

হামলাকারীদের আটজনের একটি দল এই অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।

গত সোমবার দুপুরে বন্দরনগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিডিএন অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালায় একদল লোক।

পরে কোম্পানির মালিক পক্ষ অভিযোগ করে, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী বিদেশে পালিয়ে থাকা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মাহমুদের কাছে। সেই টাকা না দেওয়ার কারণেই হামলা হয়।

বিষয়টি নিয়ে ইমনের সঙ্গে কোম্পানির মালিকের টেলিফোন আলাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চকবাজার থানায় মামলা করেন ডিডিএনের এক কর্মকর্তা। 

মামলায় বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সোমবার দুপুরে ডিডিএন অফিসে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করে ৩০/৪০ জন ‘সন্ত্রাসী’। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাব, গ্লাস ভাঙচুর করে অন্তত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি করে তারা। তিনটি মোবাইল ফোন, ড্রয়ার থেকে নগদ ৪৭ হাজার এবং কোম্পানির পরিচালকের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকাভর্তি একটি ব্যাগও তারা নিয়ে যায়।

ওই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ওসি নূর হোসেন মামুন জানিয়েছেন।