Published : 14 May 2026, 09:35 PM
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়ির ভেতরে মারা যাওয়া প্রবাসী চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট দুইজন পরিবারের সদস্যদের সাথে কোরবানির ঈদ করতে দেশে আসার কথা ছিল।
শুক্রবার বাংলাদেশে ফেরার জন্য তাদের টিকেট কাটা ছিল। কিন্তু নিজেদের গাড়ির ভেতরেই তাদের চারজনের মৃত্যু হয়। তারা বিষক্রিয়ার শিকার বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পরিবারের চার সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় তাদের বড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মারা যাওয়া রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ শহিদ লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার মৃত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে।
তাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ এনাম মাকে নিয়ে লালানগরের বাড়িতেই থাকেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত এবং তাদের পরিবার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতেই থাকেন। এদের মধ্যে সাহেদ সাত মাস আগে বিয়ে করে ওমানে গেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে তিনি বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মত অবস্থাও তাদের নেই।
পরে মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে ওমান পুলিশ।
রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসমাইল বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লালানগরের বন্দাররাজা পাড়া এলাকায় দুই বছর আগে দোতলা বাড়ি করেছিলেন এনামের ভাইয়েরা। সেই বাড়িতেই এনাম, তার মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকেন।

“চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে ওই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বৃদ্ধা মা আগে থেকেই অসুস্থ। তাকে চার সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। আজ সকাল থেকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা সেখানে ভিড় করলেও এনাম কারো সাথে কথা বলেননি বা কাউকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।”
ওই সাংবাদিক বলেন, “তাদের মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘরে কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। সকাল থেকে দুইবার ডাক্তারও নেয়া হয়েছে।”
এনাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খবরটা শোনার পর থেকে আমাদের কারো মানসিক পরিস্থিতি ভালো নেই। আম্মাও অসুস্থ, তাকে এখনো খবরটা জানানো হয়নি।”
তিনি বলেন, “আমার ছোট দুই ভাইয়ের শুক্রবার দেশে আসার কথা ছিল। এজন্য তারা কেনাকাটা করতে গিয়েছিল বলে জেনেছি। আশা ছিল, এই কোরবানে মায়ের সঙ্গে দুই ভাই ঈদ করবে। কিন্তু আমাদের কপালে সেটা নেই।”
তাদের প্রতিবেশী এবং মারা যাওয়া সিরাজের বন্ধু সাকিবুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিরাজ ও শহিদের শুক্রবার বাড়ি আসার কথা ছিল। বাড়ি ফিরলে সিরাজ ও এনামের বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য তারা কেনাকাটা করতে গিয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।
“ওমানে থাকা আমাদের পরিচিত লোকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, তারা একটি গাড়ির মধ্যেই ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশে দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা হাসপাতালে গিয়ে কথা বলেছি, সে সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারাও ছিলেন। তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী সোম বা মঙ্গলবারে তাদের লাশ দেশে পাঠানো হতে পারে বলে জানান তিনি।
পুরনো খবর
ওমানে গাড়ির ভেতর চার প্রবাসী ভাইয়ের লাশ