Published : 19 Jul 2026, 01:32 PM
দুয়ারে আরেকটি ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে নামবে কাছাকাছি ঘরানার ফুটবল খেলা দুটি দল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এর আগে অতীতের বিভিন্ন ফাইনালের নানা কীর্তি সামনে এনেছে ফিফা।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-
৮৮
১৯৭৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই সময়ের পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৮৮ সেকেন্ডে গোল করেন নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান নিশকেনশ। তার গোলের আগে ম্যাচে বল স্পর্শই করতে পারেনি প্রতিপক্ষ ফুটবলাররা।
নেদারল্যান্ডসের কিক অফ থেকে ১৬ পাসের পর, বল যায় ইয়োহান ক্রুইফের পায়ে। সেখান থেকে জার্মানির দুজনকে বোকা বানিয়ে তিনি ডি বক্সে ঢুকে পড়েন। সেখানে তাকে থামানো হয় ফাউল করে। সফল স্পট কিকে ডাচদের এগিয়ে নেন নিশকেনশ।
বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম পেনাল্টির জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪৪ বছর। দ্বিতীয়টি আসে স্রেফ ২৩ মিনিট পরেই।
পশ্চিম জার্মানি পেনাল্টি পেলে সেখান থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান পল ব্রেইটনার। পরে শিরোপা ঘরে তোলে পশ্চিম জার্মানি।
৬০
বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ক্লিন শিট রাখতে অপেক্ষা করতে হয় ৬০ বছর। ২৪টি দল চেষ্টা করেও জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। ১৯৯০ আসরের ফাইনালে প্রথমবার ক্লিন শিট রাখে পশ্চিম জার্মানি। ২৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক বোডো ইগনা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ক্লিনশিট রাখেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক তিনিই।
সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠে পশ্চিম জার্মানি। ওই ম্যাচে ইংলিশদের হয়ে পোস্টে ছিলেন পিটার শিলটন। পেশাদার ফুটবলে তার অভিষেকের এক বছর পর জন্ম হয় ইগনার।
যে ধারার সূচনা করেন ইগনা, সেটা পরেও অব্যাহত থাকে। পরের ছয় ফাইনালে দেখা যায় ছয় ক্লিন শিট।
৪৪
দ্বিতীয় পছন্দের জার্সি নিয়ে বিশ্বকাপ জিততে না পারার ৪৪ বছরের ধারার ইতি টানে স্পেন, ২০১০ আসরে। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড নিজেদের দ্বিতীয় পছন্দের লাল জার্সি পরে বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর ১৯৮৬ আসরে জার্মানি, চার বছর পর আর্জেন্টিনা এবং ২০০৬ আসরে ফ্রান্স দ্বিতীয় পছন্দের জার্সি পরে হারে।
৩০
১৯৫৪ সালে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে পশ্চিম জার্মানি। সঙ্গে থামায় হাঙ্গেরির ৩০ ম্যাচের অজেয় যাত্রা।
প্রথম আট মিনিটের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে জার্মানি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করে জয়। বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কোনো দলের এটাই একমাত্র জয়ের রেকর্ড।
গ্রুপ পর্বের দুই দলের দেখায় জার্মানিকে ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাঙ্গেরি।
২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানির এই রেকর্ড প্রায় ভাঙতে বসেছিল ফ্রান্স। তবে, টাইব্রেকারে হেরে যাওয়ায়, তা আর হয়নি।
২২
১৯৮২ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির দুই সতীর্থ জুজেপ্পে বের্গোমি ও দিনো জফের মধ্যে বয়সের পার্থক্য ছিল ২২ বছর। দুইজনের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৮ ও ৪০। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান ছিল ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিল দলের শুরুর একাদশে। দলের দুই খেলোয়াড় পেলে ও নিল্তন সান্তোসের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিল ১৫ বছর ৫ মাস।
বিপরীতে ১৯৯৮ ফাইনালে ফ্রান্সের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বয়সী দুইজনের (জিনেদিন জিদান ও ফ্রকঁ লেবাফ) মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিল সবচেয়ে কম- ৪ বছর ৫ মাস।
৮
১৯৬৬ আসরের ফাইনালে মার্টিন পিটার্স ও জিওফ হার্স্ট মিলে ইংল্যান্ডের হয়ে করেন চার গোল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের দুজনের সম্মিলিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ছিল ৮।
অন্যদিকে, ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে চারজন মিলে করেন চার গোল। তাদের সম্মিলিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ছিল ২২০ টি।
৭
বিশ্বকাপ ফাইনালে এখন পর্যন্ত ৭ বার পিছিয়ে পড়া দল শিরোপা জিতেছে। যার প্রথম ছয়টিই ঘটেছে প্রথম সাত আসরে।
১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে উরুগুয়ে, ১৯৩৪ সালে চেকোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ইতালি, ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে পশ্চিম জার্মানি, ১৯৫৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে এবং ১৯৬২ সালে চেকোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল। আর ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ড পিছিয়ে পড়ে শিরোপা জিতেছিল।
পরে ১৯৭৪ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে সবশেষ বিশ্বকাপ জেতে পশ্চিম জার্মানি। এ ঘটনার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও আর কোনো দল পিছিয়ে পড়ে ফাইনাল জিততে পারেনি।
২০০৬ ফাইনালে ইতালি পিছিয়ে পড়ার পর বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে, ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে শেষ না হওয়া ফলাফল নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে।
১৯৫০ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে জয় পেয়েছিল উরুগুয়ে। যদিও সেটা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক কোনো ফাইনাল ম্যাচ ছিল না। তবে, ওই ম্যাচেই নির্ধারিত হয় শিরোপা ভাগ্য।
৫
১৯৫৮ ফাইনালে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে থাকা পাঁচ ফুটবলার ছিলেন না টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে। এটাই বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের প্রথম ও শেষ ম্যাচের শুরুর একাদশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
জাওমা সান্তোস, জিতো, গারিঞ্চা, পেলে ও ভাভা টুর্নামেন্টের মাঝপথে একাদশে জায়গা পান। ওই ফাইনালে ৩৫ বছর ২৬৪ দিন বয়সে গোল করেন নিলস লিডহোম। এখন পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জালের দেখা পাওয়া সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড় তিনিই। আর ১৭ বছর বয়সে গোল করে পেলে হন সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা।
সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিল জেতে ৫-২ ব্যবধানে; হয় মোট ৭ গোল। বিশ্বকাপের ফাইনালে এর চেয়ে বেশি গোল হয়নি আর কোনো ম্যাচে।
৪
বিশ্বকাপ ফাইনালে চার গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। জিওফ হার্স্ট, ভাভা, পেলে ও জিনেদিন জিদান তিনটি করে গোল করেছেন।
এমবাপে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফাইনালে একটি গোল করেন এবং ২০২২ ফাইনালে করেন হ্যাটট্রিক।
ফ্রান্সের হয়ে ফাইনালে তার সবশেষ গোল ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে ১১৮তম মিনিটে। ফাইনালে এর চেয়ে দেরিতে হয়নি আর কোনো গোল।
৩
একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন কাফু। ১৯৯৪ সালে জর্জিনিয়োর বদলি হিসেবে নামেন, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেন আর ২০০২ ফাইনালে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেন।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের নামের পাশে আছে তিন বিশ্বকাপ। চোটের কারণে ১৯৬২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে পারেননি তিনি।
আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। এখন অপেক্ষায় আছেন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার।
২
পাঁচ ফুটবলার দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছেন। ভাভা (১৯৫৮ ও ১৯৬২), পেলে (১৯৫৮ ও ১৯৭০), পল ব্রেইটনার (১৯৭৪ ও ১৯৮২), জিনেদিন জিদান (১৯৯৮ ও ২০০৬) এবং কিলিয়ান এমবাপে (২০১৮ ও ২০২২)।
২
লুইস মন্তি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। ১৯৩০ সালে নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার হয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে আর ১৯৩৪ সালে ইতালির হয়ে চেকোস্লাভিয়ার বিপক্ষে।
১৯৩৪ বিশ্বকাপে দুই দলের অধিনায়ক ছিলেন দুই গোলরক্ষক।