Published : 09 Feb 2026, 02:55 PM
বাবর আজমের টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয়। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ব্যাট হাতে তার ভোগান্তিতে সেসবে যেন লেগেছে নতুন হাওয়া। এই সংস্করণে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং কার্যকর হয়ে উঠতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে পথ দেখিয়েছেন রিকি পন্টিং ও রাভি শাস্ত্রী।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচে ডাচদের বিপক্ষে ১৫ রান করতে ১৮ বল খেলেন বাবর। মারতে পারেন স্রেফ একটি বাউন্ডারি।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হারের দুয়ার থেকে ফিরে আসে পাকিস্তান। ফাহিম আশরাফের শেষ দিকের ক্যামিওতে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ওই ম্যাচের পর পাকিস্তান দলের পাশাপাশি চর্চা চলছে টি-টোয়েন্টিতে বাবরের পারফরম্যান্স নিয়েও। আইসিসি রিভিউয়ে আলাপকালে বাবরকে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পথ বাতলে দেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও ব্যাটিং গ্রেট পন্টিং।
“আপনি যদি ১৮ বলে ১৫ রান করেন, তাহলে কেবল নিজের ওপর না, অন্যপ্রান্তে থাকা সতীর্থের ওপরও চাপ তৈরি করছেন। অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান তখন বুঝে যান যে, তাকেই বাউন্ডারি মারার দায়িত্ব নিতে হবে।”
“বাবর আজমকে শুরুতেই বাউন্ডারি মারতে হবে… তাকে প্রথম ছয় বলে অন্তত দুইটা বাউন্ডারি মারতে হবে, সেটা না পারলে সে প্রতিবার ক্রিজে যাওয়ার পরই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে যাবে।”
পন্টিংয়ে সুরে তাল মেলান ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও সাবেক প্রধান কোচ শাস্ত্রী। তার মতে, প্রত্যাশার চাপও জেঁকে ধরেছে বাবরকে।
“ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে একটা বোঝা থাকেই। প্রত্যাশার চাপ থাকে। মানুষ আশা করে, সে মাঠে গিয়ে ভালো করবে। সে প্রথম পাঁচ বলের মধ্যে আউট হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমি তার মধ্যে দুয়েকটা বাউন্ডারি মারার প্রচেষ্টা দেখতে চাই। ভালো পজিশনে দাঁড়াও, বোলার কী করতে চায় সেটা আন্দাজ করো। তাহলে তুমি আরও ভালো অনুভব করবে এবং পরিস্থিতিও সম্ভবত বদলাবে।”
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং করেছেন বাবর ওপেনিংয়ে। এরপর তিনে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে তাকে চারে খেলাচ্ছে পাকিস্তান। এই পজিশনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ফিফটিতে দলের জয়ে অবদান রাখেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের হন ব্যর্থ।
পন্টিংয়ের মতে, বাবরকে তার পছন্দের তিনে খেলানো উচিত পাকিস্তানের।
“আমি হলে তাকে তিন নম্বরে খেলানোর কথা ভাবতাম। আমার মনে হয়, সে যত দ্রুত ক্রিজে যাবে, যদি সে পাওয়ার প্লে পেয়ে যায়, যখন ফিল্ডাররা ভেতরে থাকে, সেটা তার জন্য সুবিধাজনক হবে… তার পরে যারা ব্যাটিংয়ে নামবে তাদের যথেষ্ট পাওয়ার (শক্তি) আছে। মাঝের ওভারগুলোয় যখন স্পিনাররা বোলিংয়ে আসবে আর ফিল্ডার বাইরে থাকবে, তারা পাওয়ার কাজে লাগাতে পারবে।”
এভাবে চলতে থাকলে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হারাতে পারে বাবর, মনে করছেন পন্টিং।
“পাকিস্তানকে বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাকে একাদশে রাখবে নাকি বাদ দেবে।”
পাকিস্তানের একাদশে বাবরের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাস্ত্রীও।
“প্রশ্ন উঠবেই। সে মানসম্মত ক্রিকেটার… খুব দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু তাকে এটা আরও দ্রুত করতে হবে, কারণ মাঝের ওভারগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কন্ডিশন বোলারদের অনুকূলে না থাকলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত সময় দেওয়া যায় না।”
আগামী বুধবার বিশ্বকাপে পরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।