Published : 18 Feb 2026, 09:27 PM
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এখনও একটি ম্যাচ বাকি আছে অস্ট্রেলিয়ার। তবে সেটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। এরই মধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিং মনে করছেন, মূলত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরেই সর্বনাশটা হয়েছে তার উত্তরসূরিদের।
চোটের কারণে অভিজ্ঞ দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডকে বিশ্বকাপে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। তাদের ছাড়াই আসরের শুরুটা ভালো করে তারা। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারায় ৬৭ রানে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে যায় তারা ২৩ রানে।
পরের ম্যাচে ১৮১ রানের পুঁজি নিয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় মিচেল মার্শের দল। পরদিন জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এই গ্রুপ থেকে সুপার এইটে ওঠে যায় জিম্বাবুয়ে।
ওমানের বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য তাই মূল্যহীন। আইসিসি রিভিউয়ে মার্শ, ট্রাভিস হেডদের বিশ্বকাপ অভিযান বিশ্লেষণ করলেন অস্ট্রেলিয়ার দুইবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক পন্টিং।
“এটা সত্যিই বাজে অভিযান ছিল, বলতেই হবে। শুরুতে তাদের কিছু চোট সমস্যা ছিল, হেইজেলউড ও কামিন্স ছিটকে পড়ে, তারপর শুরুতে টিম ডেভিডও খেলতে পারেনি।”
“কিন্তু আমার মনে হয়, জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যাওয়াটা এমন একটা ব্যাপার, যেখানে তারা মনে করতে পারে, যেন আমাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে সেখানেই।”
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা কঠিন হতো, জানতেন পন্টিং। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারটাই সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান।
“টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপ দেখে আমার মনে হয়েছিল, শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাঠে হারানো কঠিন হবে এবং অবশ্যই তাই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা সত্যিই ভালো খেলেছে। রান তাড়া করাটা ছিল অসাধারণ। এই ধরনের স্কোর তাড়া করা কখনোই সহজ নয়।”
“কিন্তু ভাবুন, কোনো আইসিসি ইভেন্টে জিম্বাবুয়ে হারিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়াকে, এই ধরনের টুর্নামেন্টে এসব সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।”
২০০৯ সালের পর এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল অস্ট্রেলিয়া। পন্টিং জানালেন, এভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ের পর তাকে নিয়ে রসিকতা করছেন তার ভারতীয় বন্ধুরা।
টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো টি-টোয়েন্টিকে অস্ট্রেলিয়া যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। পন্টিং অবশ্য এমনটা মনে করেন না। তার মতে, আইসিসি ট্রফি জয় যেকোনো তরুণ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত।
“এটা সত্য কি না, আমি নিশ্চিত নই। ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, আমাদের ছেলেরা মাত্র পাঁচটি দীর্ঘ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে (অ্যাশেজ সিরিজে) এবং সেটা কয়েক মাস ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। পরে কয়েকজন বিগ ব্যাশে খেলেছে। অন্যরা বিশ্রাম নেওয়ার এবং সতেজ হয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
“কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি যেসব অস্ট্রেলিয়ান দলে বা তার আশেপাশে ছিলাম… হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ, বোর্ডার-গাভাস্কার (ট্রফি) গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মূল যে কারণে সবাই খেলে, সেটা হলো বিশ্বকাপ জয় ও শিরোপা জয়।”