Published : 22 Feb 2026, 06:58 PM
মন্থর উইকেটে এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে টানলেন ফিল সল্ট। তার ফিফটি ও বাকিদের টুকটাক অবদানে লড়ার মতো পুঁজি পেল ইংল্যান্ড। কার্যকর ইনিংস খেলা উইল জ্যাকস পরে বল হাতেও ছড়ালেন আলো। তার ছোবলে পাওয়ার প্লেতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না শ্রীলঙ্কা।
পাল্লেকেলেতে রোববার লঙ্কানদের ৫১ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শুরু করেছে ইংল্যান্ড। ১৪৬ রান করে স্বাগতিকদের তারা গুটিয়ে দিয়েছে স্রেফ ৯৫ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে ইংল্যান্ডের এটি দ্বিতীয় বড় জয়। ২০১২ সালে কলম্বোতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৬ রানের জয় এই প্রতিযোগিতায় তাদের রেকর্ড।
আর লঙ্কানদের বিপক্ষে এনিয়ে টানা ১২ টি-টোয়েন্টি জিতল ইংল্যান্ড। আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি দলের বিপক্ষে টানা সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ড পাকিস্তানের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরপর ১৫ টি-টোয়েন্টি জিতেছিল তারা।
ইংলিশদের এদিনের জয়ে বড় অবদান রাখেন সল্ট। সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করে ম্যাচের একমাত্র ফিফটি উপহার দেন তিনি। দুটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৪০ বলে ৬২ রান করেন এই ওপেনার।
তবে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন জ্যাকস। চারটি চারে ১৪ বলে গুরুত্বপূর্ণ ২১ রান করা জ্যাকস পরে অফ স্পিনে ২২ রান খরচায় ধরেন তিন শিকার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ক্রিজে জস বাটলারের অস্বস্তি শেষ হয় চতুর্থ ওভারে, দুনিথ ওয়েলালাগের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বিদায় নেন জেকব বেথেল।
রান আউটে কাটা পড়েন টম ব্যান্টন। হ্যারি ব্রুক ও স্যাম কারানও পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে দলের রানের চাকা সচল রাখেন সল্ট। ৩৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।
পঞ্চদশ ওভারে ওয়েলালাগেকে ছক্কার চেষ্টায় ড্রেসিং রুমে ফেরেন সল্টও। থিকশানা ও চামিরাকে একটি করে চার মারা জ্যাকস ১৯তম ওভারে দুটি বাউন্ডারি হাঁকান মাদুশাঙ্কাকে। শেষ ওভারে চামিরাকে ছক্কায় ওড়ান জেমি ওভারটন।
ইংল্যান্ডকে দেড়শর কমে আটকে রাখার লঙ্কানদের স্বস্তি উবে যায় ব্যাটিংয়ে নেমে। তৃতীয় ওভার থেকে শুরু হয়ে তাদের ব্যাটিং ধস। ওই ওভারে জফ্রা আর্চারকে টানা দুই চার মারার পরের বলে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন পাথুম নিসাঙ্কা।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুই বলে কুসাল মেন্ডিস ও পাভান রাত্নায়েকের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান জ্যাকস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন বলে তিন শিকার ধরার কীর্তি গড়তে পারেননি তিনি।
আর্চারের বলে গালিতে ধরা পড়েন কামিল মিশারা। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জ্যাকসকে টানা দুটি চার মারেন ওয়েলালাগে। দুই বল পর তাকে ফিরিয়ে প্রতিশোধ নেন জ্যাকস।
৩৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সাতে নেমে কিছুক্ষণ দলকে টানেন দাসুন শানাকা। বাউন্ডারিতে জ্যাকস ও টম ব্যান্টনের যৌথ চেষ্টার দারুণ ক্যাচে লঙ্কান অধিনায়ককে ফেরায় ইংল্যান্ড। দুই ছক্কা ও এক চারে ৩০ রান করেন শানাকা।
বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডসনও নেন দুই উইকেট। তবে চমৎকার বোলিং করেন আদিল রাশিদ। স্রেফ ১৩ রান দিয়ে দুই শিকার ধরেন এই লেগ স্পিনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪৬/৯ (সল্ট ৬২, বাটলার ৭, বেথেল ৩, ব্যান্টন ৬, ব্রুক ১৪, কারান ১১, জ্যাকস ২১, ডসন ৬, ওভারটন ১০*, আর্চার ০, রাশিদ ১*; মাদুশাঙ্কা ৪-০-২৫-২, ওয়েলালাগে ৪-০-২৬-৩, থিকশানা ৪-০-২১-২, হেমান্থা ৪-০-৩৮-০, চামিরা ৪-০-৩৪-১)
শ্রীলঙ্কা: ১৬.৪ ওভারে ৯৫ (নিসাঙ্কা ৯, মিশারা ৬, মেন্ডিস ৪, রাত্নায়েকে ০, ওয়েলালাগে ১০, কামিন্দু ১৩, শানাকা ৩০, হেমান্থা ৫, চামিরা ৬, থিকশানা ১০*, মাদুশাঙ্কা ০; আর্চার ৩-০-২০-২, জ্যাকস ৪-০-২২-৩, ডসন ৪-০-২৭-২, রাশিদ ৩.৪-০-১৩-২, ওভারটন ২-০-১৩-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৫১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: উইল জ্যাকস।