Published : 19 Jul 2026, 12:43 PM
শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৪ রান। প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দিলেন ওবাস পিনার। ম্যাচ হেলে পড়ল ব্যাটিং দলের দিকে। কিন্তু এরপর যা হলো, সবকিছু যেন হার মানাল সিনেমার শেষ সময়ের জমজমাট চিত্রনাট্যকেও। প্রতি বলে নাটক, প্রতি বলে ম্যাচের মোড় বদলে যাওয়া। টানা দুই বলে উইকেট, এরপর বাউন্ডারি, শেষ বলের উইকেট, সব উত্তেজনার শেষে দুই দলের ব্যবধান কেবল ১ রানের।
মেজর লিগ ক্রিকেটের চতুর্থ আসরের ফাইনালে শেষ বলের ফয়সালায় ওয়াশিংটন ফ্রিডমকে ১ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন লস অ্যাঞ্জেলস নাইট রাইডার্স।
টুর্নামেন্টের আগের তিন আসরের দুটিতেই সবচেয়ে তলানিতে ছিল তারা, একটিতে ছিল তলানি থেকে দুইয়ে। তিন আসর মিলিয়ে ম্যাচ জিততে পেরেছিল মোটে পাঁচটি। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন দলটি অবশেষে ব্যর্থতার ধারা পেছনে ফেলে বিজয় কেতন ওড়াতে পারল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যেও ১০ হাজারের বেশি দর্শক ছিল মাঠে, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতায় যা দারুণ ব্যাপার।
শেষ ওভারে শ্যাডলি ফন স্কালভিকের প্রথম বলে দারুণ শটে লং অফের ওপর দিয়ে বল গ্যালারিতে পাঠান পিনার। যুক্তরাষ্ট্রের এই পেসার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান পরের বলেই। শাফল করে খেলার চেষ্টা করেন পিনার, তার পায়ের পেছন দিয়ে স্টাম্পে ছোবল দেয় ফন স্কালভিকের ইয়র্কার।

পরের বলে লং অফে ধরা পড়েন নতুন ব্যাটার ইয়ান হল্যান্ড। লং অফে ক্যাচ নিয়ে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার খ্যাপাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন সতীর্থ আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে। এরপর আরেক দফা নাটক। স্কালভিকের হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে দুর্দান্ত শটে কাভার দিয়ে চার মারেন লকি ফার্গুসন। পঞ্চম বলে আসে সিঙ্গল।
শেষ বলে লাগত তিন রান। ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ঠিমতো টাইমিং করতে পারেননি লাহিরু মিলান্থা। একটি রান নিতে পারলেও দ্বিতীয় রান নিতে পারেননি দুই ব্যাটার। বোলার ফন স্কালভিক নিজেই মিড অনে ছুটে গিয়ে বল ধরে কিপারের দিকে থ্রো করেন ঠাণ্ডা মাথায়। কিপারও স্নায়ুর চাপ সামলে বল ধরে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
ওকল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালের ম্যাচটিতে রাইট রাইডার্স অলআউট হয় ১৬৪ রানে। ছোট মাঠ ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই রান ছিল একদমই মাঝারি সংগ্রহ। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ জিতে নেয় হোল্ডারের দল।
অধিনায়ক নিজে শিকার করেন তিন উইকেট। শেষ ওভারের নায়ক ফন স্কালভিক। তবে তাদের জয়ের নায়ক নাইটদের চিরসবুজ এক সৈনিক। ৪ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ফাইনাল সুনিল নারাইন।
তিনটি উইকেটই নিয়েছেন তিনি পাওয়ার প্লেতে। তার সেই তিন শিকার ওয়াশিংটনের তিন আগ্রাসী টপ অর্ডার মিচেল ওয়েন, স্টিভেন স্মিথ ও রাচিন রাভিন্দ্রা।
আইপিএল ও অন্যান্য লিগে এখন আর নতুন বলে নিয়মিত বল করেন না নারাইন। তবে এবারের মেজর লিগ ক্রিকেটে পুরোনো ভূমিকায় নিজেকে নতুন করে ধরেছেন ৩৮ বছর বয়সী স্পিনার। ওভারপ্রতি মাত্র ৪.৭৪ রান দিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টও তিনিই। এর মধ্যে ১৫ উইকেটই এসেছে পাওয়ার প্লেতে, ওভারপ্রতি পাঁচের কম রান দিয়ে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নাইট রাইডার্সকে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৩ রান এনে দেন কলিন মানরো ও আন্দ্রে ফ্লেচার। কিন্তু এরপর প্রত্যাশিত গতি পায়নি ইনিংস।
২৭ বলে ৪৭ রান করেন ফ্লেচার, ২৯ বলে ৪০ মানরো। তিনে নেমে প্রথম বলে আউট হয়ে যান আন্দ্রে রাসেল।
এরপর কেবল ম্যাথু ট্রম্প ছাড়া আর কেউ ভালো করতে পারেননি। ২১ বলে ৩৯ রান করেন ট্রম্প। নাইট রাইডার্সের শেষ ৭ ব্যাটসম্যান মিলে করেন ৩৩ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই ফ্রিডমকে নাড়িয়ে দেয় নারাইন। তার তিন উইকেটের পর ফ্রিডমকে এগিয়ে নেন নিখির চৌধুরি ও আন্দ্রিয়েস হাউস।
নিখিলকে (২৫) ফিরিয়ে ৬৫ রানের জুটি ভাঙেন হোল্ডার। পরে তিনি বড় বাধা সরিয়ে দেন হাউসকে ফিরিয়ে। আগের তিন ম্যাচে ৯৬, ১৩২ ও ৭৩ রান করা ব্যাটসম্যান এবার ফেরেন ৪০ রানে।
এরপর ফ্রিডমের আশা খুব একটা ছিল না। শেষ ৩ ওভারে লাগত ৪৪ রান। কিন্তু ৯৬ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটির জন্য এই দিনটিকে বেছে নেন পিনার। স্কালভিককে টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি, ছক্কা-চার-ছক্কা মারেন আলি খানকে। শেষ ওভারেও প্রথম বলে ছক্কায় ফিফটি করেন ২৩ বলে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না তিনি, পারল না তার দল।
মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম ও তৃতীয় আসরের শিরোপা জিতেছিল এমআই নিউ ইয়র্ক, দ্বিতীয় আসরে ওয়াশিংটন ফ্রিডম।