Published : 18 Jul 2026, 06:41 PM
“শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’, এই প্রবাদ আদতে সত্যি নয় সবসময়। এই জিম্বাবুয়ে সফর যেমন বাংলাদেশের জন্য ব্যর্থ সফর হয়েই থাকবে। একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারার পর প্রাপ্তি আর বাকি থাকেই বা কী! তার পরও সুযোগ আছে, শেষ ম্যাচ জিতে খানিকটা স্বস্তিতে সফর শেষ করার। অন্তত হতাশা পরিধি আর না বাড়ানোর।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন যখন রোববার নিউ জার্সিতে তাকিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের অপেক্ষায়, এর আগে বাংলাদেশ দল নামবে বুলাওয়ায়োতে শেষের স্বস্তির খোঁজে।
এই সফরে এমনিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ছিল সামান্যই, হারানোরই ছিল অনেক বেশি। দুই সংস্করণে সেই শঙ্কাই সত্যি হয়েছে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরে ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজরা।
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। এখানেও সিরিজ শুরু হয় বড় হার দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার ব্যাটে-বলে ভালো পারফরম্যান্সে সিরিজ জিইয়ে রাখেন হৃদয়রা।
এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের একটি প্রাপ্তি ইয়াসির আলি চৌধুরির ব্যাটিং। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর হুট করেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। তখন সেটা প্রশ্নের জন্ম দিলেন জবাব দিয়েছেন তিনি ব্যাট হাতে।
প্রথম ম্যাচে দল হারলেও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি উপহার দেন ইয়াসির। পরের ম্যাচে শেষ দিকে নেমে ১২ বলে ২২ রানে গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও খেলেন।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগের দিন বিসিবির ভিডিও বার্তায় ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বললেন, দেশের জন্য ভালো কিছু করার তাড়না থেকেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছেন তারা।
“মরিয়াভাব নয়, আমরা সবাই চেষ্টা করছিলাম যার যার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, দলের যে একটা বন্ডিং, স্পিরিট, ওটা মাথায় নিয়েই সবাই নেমেছিল যে, আমরা বাংলাদেশের জন্য খেলব এবং বাংলাদেশকে জেতাব। আমার কাছে মনে হয়, সবারই ওরকম (ভাবনা) ছিল যে, বাংলাদেশকে জেতাব।”
দুই ম্যাচের ফাঁকে এক দিনের বিরতিতে অনুশীলন সেশন ছিল না দলের। হোটেলেই ছিল শুধু শারীরিক কসরত। ইয়াসির বললেন, আগের ম্যাচের পথ ধরেই শেষ ম্যাচে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।
“আজকে শুধু একটু জিম সেশন ও রিকভারি সেশন হয়েছে। আশা করি, এটা আগামীকালের ম্যাচের জন্য আমাদেরকে ভালো করতে উজ্জীবিত করবে।
“আমরা সবশেষ ম্যাচটি যেভাবে খেলেছি, আমরা চেষ্টা করব ওভাবে খেলার। ইতিবাচক অ্যাপ্রোচ অবশ্যই থাকবে। আমরা চেষ্টা করব দেশের জন্য খেলতে, দেশকে একটি সিরিজ যেন আমরা জেতাতে পারি।”
টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দল অবশ্য তুলনামূলক ভালো ও পোক্ত। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে তারা। তাদের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে একদম ফেলনা হবে না।