Published : 18 Jul 2026, 07:32 PM
এই শহরে হঠাৎ করে এক ছাদের নিচে পাওয়া গেল ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের কয়েকজনের অভিনেত্রী, গান ও নাচের জগতের কিছু মানুষকে। একে অপরের দেখা পাওয়ায় তারা হলেন ‘অভিভূত, আপ্লুত’; অজান্তেই নিজেদের ফিরিয়ে নিলেন বহুকাল আগে।

আয়োজনটি ছিল নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপার জন্মবার্ষিকী ঘিরে; শিল্পী শাকিলা জাফরের বাসভবনে। শুক্রবার শাকিলার বাসার সেই জম্পেশ আড্ডায় মশগুল হয়েছিলেন সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবনম, ঢাকাই সিনেমার 'তিন কন্যা' সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা।
ছিলেন অভিনেতা আফজাল হোসেন, সংগীতশিল্পী নকীব খান, রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানাসহ আরও কিছু মুখ।

জন্মবার্ষিকীর আয়োজন কেমন লাগল জানতে কথা হয় সংগীতশিল্পী রফিকুল আলমের সঙ্গে। তিনি গ্লিটজকে বলেন, দীর্ঘদিন পর তারা পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা ও আড্ডায় একটা সুন্দর মুহুর্ত কাটিয়েছেন। গান, ছবি তোলা, আনন্দ, আড্ডায় পুরো আয়োজনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত।

রফিকুল আলম বলেন, "সাধারণত ফেরদৌসী আপা (ফেরদৌসী রহমান) তো কোথাও ওভাবে যান না। উনার সঙ্গে অনেকটা সময় আমরা কাটিয়েছে। আর শবনম আপাও খুব একটা বের হন না। আমাদের অনুরোধে, বিশেষ করে নিপা ও শাকিলার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ওনারা এসেছেন। ওনাদের পেয়ে আমরা সবাই ভীষণ খুশি হয়েছিলাম।"
জন্মদিনের কেক কাটার পর তারকারা মেতে ওঠেন আড্ডায়, যে আড্ডা পুরনো দিনের স্মৃতি আর গল্পে ভর করে এগিয়ে চলে।

‘তিন কন্যা’ নিয়ে রফিকুল আলম আরও বলেন, "ওনারা (সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা) নিজেরাই সব অ্যানাউন্সমেন্ট করছিলেন, কথা বলছিলেন। ববিতা ও চম্পা ডেকে আমাকে বলছিল ‘তোমার সঙ্গে আমার ছবি নাই, ছবি তোলো।’ এমনকি শবনম আপাও তিনিও আমাকে ডেকে বললেন ,‘তোমাকে দেখে খুব ভালো লাগছে, তুমি তো চেঞ্জ হও নাই! কী খাও তুমি?’
“আসলে ওনার প্রয়াত স্বামী রবিন ঘোষ আমাকে গায়ক হিসেবে ভীষণ পছন্দ করতেন। ওনার সুরে পাকিস্তানের একটি সিনেমায় আমার গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে শবনম আপা ও আমার আর আবিদার গান খুব পছন্দ করেন। লতা মঙ্গেশকর, মেহেদী হাসান বা নূরজাহানের মত কিংবদন্তিদের সাথে কাজ করা এমন মানুষদের মুখে আমাদের গানের প্রশংসা শোনা সত্যিই বিরাট ব্যাপার।"
স্বাভাবিকভাবে গান-বাজনা আড্ডার অংশ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন রফিকুল আলম। তিনি বলেন, আমন্ত্রিত অতিথিদের অনুরোধে সেখানে খালি গলায় গান শোনান আবিদা সুলতানা ও নকীব খান।

রফিকুল আলম বলেন, "আমাদের খুব ভালো একটা সার্কেল আছে, আমরা মাঝে মধ্যে আনন্দ করি, খাওয়া-দাওয়া করি। তবে এই সমস্ত ক্রেডিট হচ্ছে নিপা আর শাকিলার; শাকিলার বেশি। সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে আমাদের এমন মেলবন্ধন বর্তমান সময়ে বেশ বিরল।
“ব্যস্ততা ও নানাবিধ কারণে এখন আর একসঙ্গে সবাইকে পাওয়া না গেলেও, নিপার জন্মদিনের এই সন্ধ্যাটি আমাদের সোনালী অতীতে নিয়ে গিয়েছিল। শাকিলার মনটা এত বড় ,তার কারণে এই আয়োজনটা হলো।"