Published : 18 Jul 2026, 09:23 PM
বারবার ফাউল করে ও আগ্রাসী ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের কৌশল ভেস্তে দিতে চায় আর্জেন্টিনা, এমনটা দাবি করেছেন এমরিক লাপোখ্ত। স্পেনের এই ডিফেন্ডারের মতে, ফুটবলে এমন আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকে রেফারিকে কঠোর হতে বলেছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপের শিরোপার নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই ১টায় (এএম) শুরু মাঠের লড়াই। এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে লড়বে কোপা আমেরিকা ও ইউরোর বর্তমান দুই চ্যাম্পিয়ন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে শারীরিক শক্তি নির্ভর ফুটবল খেলার কৌশল বেছে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চড়াও হতেই যেন ব্যস্ত ছিল। ২-১ ব্যবধানে জেতা ওই ম্যাচে ১৫টি ফাউল করে আর্জেন্টিনা, হলুদ কার্ড দেখেন দলটির তিনজন। কম যায়নি ইংলিশরাও, ১১টি ফাউল করে তারা, হলুদ কার্ড পান একজন।
সেদিন ম্যাচ শুরুর তৃতীয় মিনিটেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে পেছন থেকে কড়া ট্যাকল করেন এন্সো ফের্নান্দেস। ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ইংলিশ মিডফিল্ডারের ঘাড়ের পেছনে আঘাত করেন তিনি। কিন্তু আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে কোনো কার্ড দেখাননি রেফারি।
শুধু তা-ই নয়, ইংল্যান্ড সমর্থকরা মনে করেন, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তাদের দাবি, গোলের আগে লিওনেল মেসি ইংলিশ ডিফেন্ডার জেড স্পেন্সকে ফাউল করেছিলেন।
নিয়মের মধ্যে থাকা আগ্রাসী ফুটবলে আপত্তি নেই লাপোখ্তের। তবে ম্যাচে বিশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয়, রেফারিকে সেদিকে নজর দিতে বলেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
“পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য এগুলোকে সামলানো রেফারির কাজ। দুয়েকজন খেলোয়াড়কেও যদি এভাবে খেলতে দেওয়া হয়, তাহলে ম্যাচে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।”
“ফুটবলের নিয়মের মধ্যে আগ্রাসী খেলা নিয়ে আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই। যদি সেটা নিয়মের মধ্যে থাকে এবং রেফারি তার কাজ ঠিকভাবে করেন, তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই।”
এরপর আর্জেন্টিনার কিছু কর্মকাণ্ড রেফারির উপেক্ষা করার প্রসঙ্গ তোলেন লাপোখ্ত।
“এটা সত্যি যে, সম্প্রতি কিছু ম্যাচে আমরা এমন কিছু দেখেছি, যা সত্যিই অবাক করেছে- কিছু কর্মকাণ্ডকে খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
“বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা এমন একটি দল যারা প্রতিপক্ষের ওপর ছাপ রাখতে চায় (শারীরিক শক্তির প্রভাব বিস্তার করতে) পছন্দ করে। ফুটবলে এসবের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়- বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে। কারণ এটা আরেক জনকে অস্থির করে তুলতে পারে ও রাগিয়ে দিতে পারে।”