Published : 18 Jul 2026, 09:20 PM
অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তার আলোকে চীন বাংলাদেশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, “ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সফর সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে একমত হয়েছে।
“দীর্ঘদিনের কিছু জটিলতা কাটিয়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগে ভারতসহ যে কোনো দেশকে স্বাগত জানানো হবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।”
শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, উভয় দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি বাস্তবসম্মত নীতিতে বিশ্বাসী। ভূ-রাজনীতি আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়। আমাদের অগ্রাধিকার হল অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় করি। এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। চীন আমাদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।”
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। বাংলাদেশের এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলেও দাবি করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি অন্যতম বড় সংকট আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, “চীন সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী উত্তরণে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা আমাদের সরকার প্রত্যাশা করে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।