Published : 19 Jul 2026, 08:11 PM
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ একটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরীক্ষা নেওয়ার পর ভুল ধরা পড়ে।
পরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সময় বাড়িয়ে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।
রোববার সকাল ১০টায় উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান।
তবে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দিলেও প্রথমে তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, সকাল ১০টায় ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভুল প্রশ্নের পরীক্ষা দিতে থাকেন। পরে ভুলটি ধরা পড়লে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। এরপর নতুন প্রশ্নে সময় বাড়িয়ে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী পলক বলেন, “পরীক্ষা শুরুর পর প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি কিন্তু পরে পৌনে দুই ঘণ্টা যাওয়ার পরে বুঝতে পারি প্রশ্নটি ২০২৫ সালের। পরে স্যারকে জানালে তারা সেটি পরিবর্তন করে দেন।”
আরেক শিক্ষার্থী হাসান বলেন, “শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে আমার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। তারা আমাদের ভুল প্রশ্ন দিয়েছিল। আমরা পরীক্ষা দেওয়ার পরে দেখি আমাদের প্রশ্নটি ভুল। সেটি পরিবর্তন করে সময় বাড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”
পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, “দুটি কক্ষে আমরা যখন চারটি সৃজনশীল উত্তর লেখা শেষ করি তখন একজন শিক্ষক এসে আমাদের নতুন প্রশ্নপত্র দেন।
“ততক্ষণে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা সময় শেষ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে আমাদের সাতটা সৃজনশীল লিখতে হয়েছে। আমরা পরে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়েছি।”
বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীর বলেন, “আমরা সঠিক প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছি। একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের কথা তাকে জানালে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।”
ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, কেন্দ্রটিতে ৪৯০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে আজকে ৪৭৯ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে সব কক্ষে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়নি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, “আমি বর্তমানে মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ বিষয় নিয়ে আমরা ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে বসছি।”