Published : 04 Mar 2026, 10:26 AM
স্যাম কারান ছিলেন না সেদিনের ম্যাচে। তবে এই দলের জফ্রা আর্চার, জেমি ওভারটন, আদিল রাশিদরা ছিলেন এবং সবাই তুলাধুনা হয়েছিলেন। কারান না খেললেও তো আভিশেক শার্মার সেই ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানেন! আরেকটি লড়াইয়ের আগে এই ইংলিশ অলরাউন্ডার বলছেন, এবার যেন তেমন কিছু করতে না পারেন আভিশেক!
তেমন কিছু মানে, ১৭ বলে ফিফটি, ৩৭ বলে সেঞ্চুরি আর শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ১৩৫ রানের ইনিংস! ভারত ও ইংল্যান্ড সবশেষ যখন মুখোমুখি হয়েছিল, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এমন রুদ্ররূপেই আবির্ভূত হয়েছিলেন আভিশেক। পরে আবার বল হাতে দুটি উইকেটও নিয়েছিলেন আভিশেক। তবে ব্যাটিংয়ের তাণ্ডবলীলার ছাপ এখনও আছে ইংলিশদের মনে।
এরপর পেরিয়ে গেছে ১৩ মাস। দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে সেই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই। এবার উপলক্ষ অনেক বড়। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল! আভিশেকও সেই আগের চেহারায় নেই হ্যাটট্রিক শূন্য নিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর এখনও পর্যন্ত মোটে একটি ফিফটি করতে পেরেছেন। ৬ ইনিংস মিলিয়ে রান ৮০। বিশ্বকাপের আগে তার ব্যাটিংয়ে প্রতি মূহূর্তে ঠিকরে বের হতো আত্মবিশ্বাস। এখন সেখানে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ফুঠে উঠছে নিত্য।
তবে যে কোনো মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারেন তিনি, সেটা তো ইংলিশ ক্রিকেটারদের ভালোভাবেই জানা। শঙ্কাটা মাথায় রেখেই স্যাম কারান শোনাচ্ছেন তাদের আশার কথা।
“এই মুহূর্তে আমাদের সবটুকু মনোযোগ বৃহস্পতিবার রাতের দিকে। আশা করি, ওই ধরনের ইনিংস আভিশেক এবার আর খেলতে পারবে না। আমরা এই ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”
কারানের উল্টো আশা রিকি পন্টিংয়ের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসিসি ডিজিটালের আয়োজন ‘আইসিসি রিভিউ’-এ সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বলেছিলেন, এবারের বিশ্বকাপের সেরা ব্যাটসম্যান হবেন আভিশেক। তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়নি। তবে আভিশেকের ওপর তার আস্থাও কমে যায়নি।

সেমি-ফাইনালের আগে ভারতীয় ওপেনারের জন্য কিছু পরামর্শ দিলেন পন্টিং। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি শোনালেন আশার কথা।
“কখনও কখনও কেউ যখন এরকম মন্দার ভেতর দিয়ে যায়, তখন প্রতিদিনই নেটে গিয়ে ঘণ্টা দেড়েক ঘাম ঝরানো সবসময় ভালো সমাধান নয়। এমন সময়ে মাঝেমধ্যে তাকে স্রেফ ছেড়ে দিতে হয়, একটু দূরে রাখতে হয় যেন মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ওঠে। স্কিলগুলো তো দূরে চলে যাচ্ছে না। স্কিল হারায় না।”
“কিন্তু এই ধরনের পরিবেশে, যখন কেউ টানা চাপের মধ্যে থাকে এবং প্রত্যাশিত ফল মেলে না, কখনও কখনও ব্যাগ বন্ধ রাখাই ভালো। অনুশীলনের ধরন ঘুরিয়ে ফেলা যায়, যেমন একটুআধটু বোলিং করা, ফিল্ডিং সেরে নেওয়া, কিন্তু ব্যাটিং না করা, যাতে নেটে ব্যাট হাতে ফেরার তাড়না ক্রমে তীব্র হয়। আমার মনে হয়, সেমি-ফাইনালের জন্য কিছু জমিয়ে রেখেছে আভিশেক।”
যাকে নিয়ে এত আলোচলা, শঙ্কা-সম্ভাবনার দোলাচল, সেই আভিশেককে যদি ম্যাচে একাদশেই না রাখা হয়! তেমন কিছুর ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাভি শাস্ত্রি। সাঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ইশান কিষানকে ওপেন করিয়ে ফিনিশার রিঙ্কু সিংকে দলে আনার সুযোগ দেখছেন এই ধারাভাষ্যকার। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই পারফরম্যান্সের কারণেই তার চাওয়া, আভিশেককেই রেখে দেওয়া হোক দলে।
“একটি পরিবর্তন আনারই সুযোগ আছে ভারতীয় দলে, সেটি হলো ইশান কিষানকে ওপেনিংয়ে তুলে আনা ও নিচের দিকে রিঙ্কু সিংকে দলে আনা। একমাত্র পরিবর্তন এটিই হতে পারে। তবে আমি তার পরও আভিশেকের ওপরই আস্থা রাখব, কারণ সবশেষ যখন ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলেছে ভারত, সে ছিল অসাধারণ ফর্মে। ওয়াংখেড়েতে সেই সুযোগটা সরিয়ে নেব না আমি।”
“সে আগে ভালো করেছে এখানে। বড় কিছু শতরান করেছে, গতিময় সেঞ্চুরি করেছে। তাকে দলে রেখে দেব আমি, কারণ ব্যাটিং লাইন আপে যথেষ্ট বারুদ আরও আছে।”