Published : 02 Mar 2026, 10:17 AM
এমনিতে এই দুই ইনিংসের কোনো তুলনাই চলে না। একটি ইনিংস তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেনি স্রেফ তিন রানের জন্য। আরেকটি দুই রানের জন্য ছুঁতে পারেনি দু অঙ্ক। সংখ্যার বিচারে ব্যবধান বিশাল। তবে গুরুত্বের দিক থেকে দুটিকে একই সমান্তরালে রাখছেন গৌতাম গাম্ভির। ভারতের কোচের মতে, দলের জয়ের পেছনে সাঞ্জু স্যামসনের ইনিংসটির মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ শিভাম দুবের ইনিংস।
কলকাতায় রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে স্মরণীয় এক ইনিংস উপহার দেন সাঞ্জু স্যামসন। ১৯৬ রান তাড়ায় ইনিংস শুরু করতে নেমে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান তিনি অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। ৪ বল বাকি লেখে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে যখন ফিরছেন, স্যামসনের নামের পাশে তখন ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান।
দুবে যখন ক্রিজে যান, ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন তখণ ১০ বলে ১৭ রান। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান প্রথম বলেই শামার জোসেফকে বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন। এক বল পর আরেকটি বাউন্ডারি মেরে সহজ করে দেন সমীকরণ। ওভারের শেষ বলে লেগ বাই থেকে আসে ২ রান।
শেষ ওভারে রোমারিও শেফার্ডকে প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন স্যামসন। দুবে অপরাজিত থাকেন ৪ বলে ৮ রান করে।
ম্যাচের পর গাম্ভির বললেন, তাদের দলীয় দর্শনে বড় অবদানগুলির পাশাপাশি ছোট অবদানগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
“দেখুন, আমরা এখন প্রত্যেকের অবদান নিয়ে কথা বলছি। অনেক বছর ধরেই আমরা কেবল সুনির্দিষ্ট থরনের অবদানের কথা তুলে ধরেছি। এটা দলীয় খেলা এবং সবসময় দলীয় খেলা হয়েই থাকবে।”
“আমার মতে, সাঞ্জু স্যামসনের ৯৭ রানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ শিভাম দুবের ওই দুটি বাউন্ডারি। কারণ, শিভাম ওই বাউন্ডারি দুটি না মারতে পারলে সাঞ্জুর ৯৭ নিয়ে কেউ কথা বলত না। বড় বড় অবদানগুলো অবশ্য শিরোনাম তৈরি করে, তবে ছোট অবদানগুলি দলকে সহায়তা করে লক্ষ্য ছুঁতে। আমাদের এই দলের দর্শন এটিই।”
ম্যাচের পর আইসিসি ডিজিটালে আলোচনায় জাসপ্রিত বুমরাহও টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে তুলে ধরেন দুবের দুটি বাউন্ডারিকে।
“দুবে যে বাউন্ডারি দুটি মেরেছেন, ক্রিকেটের বইয়ে বা পরিসংখ্যানে কেউ হয়তো আলাদা করে খেয়াল করবে না। তবে যারা সত্যিকার অর্থে ক্রিকেট বোঝেন, তারা জানেন যে ওই দুটি চার আমাদেরকে চাপে পড়তে দেয়নি। কারণ, কখনও কখনও শেষ ওভারে ৮-৯ রান ‘ট্রিকি’ হয়ে উঠতে পারে।”
এই ম্যাচে এরকম আরেকটি ছোট অবদান ছিল তিলাক ভার্মার। পাঁচে নেমে ১৫ বলে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।
দুই ম্যাচ আগেও মূলত তিন বা চার নম্বর খেলছিলেন তিনি অনেক দিন ধরেই। এখন দলীয় সমন্বয়ের কারণে হুট করে বদলে গেছে তার পজিশন। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছয়ে নেমে করেছিলেন ১৬ বলে ৪৪। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও খেললেন দারুণ ক্যামিও ইনিংস।
এভাবে বিভিন্ন পজিশনে নিজেকে মেলে ধরায় তিলাককেও দারুণ সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন গাম্ভির।
“সে (তিলাক) নিজের পজিশনের বাইরে খেলেছে। শুরুতে তিন নম্বরে খেলছিল। এখন তাকে যখন পাঁচ বা ছয় নম্বরে খেলাচ্ছি, দেখুন সে কেমন ব্যাট করছে! তার মানে, এই প্রতিভা তার আছে। সহজাত পজিশনের বাইরে বাট করার প্রতিভা থাকবে হবে। আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, পজিশনের ব্যাপারটিই আসলে ওভাররেটেড।”