Published : 09 Mar 2026, 09:35 PM
‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’, সাঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে যেন এমন কিছুই হলো। টুর্নামেন্টের শুরুতে যিনি ছিলেন ডাগআউটে, পরে তিনিই কিনা ভারতের শিরোপা জয়ে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। স্যামসনকে বিশ্বকাপের মাঝপথে একাদশে ফেরানোর পেছনে কী ভাবনা ছিল, সেটি খোলাসা করেছেন দলটির কোচ গৌতাম গাম্ভির।
আহমেদাবাদে রোববার নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে ভারত। ২০ ওভারে রেকর্ড ২৫৫ রানের পুঁজি গড়ে ৯৬ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
দলকে পাহাড়সম সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন স্যামসন। পাঁচ চার ও আট ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
শুধু ফাইনালেই নয়, স্যামসনের ব্যাট হাসে আগের দুই ম্যাচেও। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান বন্যার ম্যাচেও দলের সর্বোচ্চ ঠিক ৮৯ রান করেন তিনি। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রান তাড়ায় দলকে জিতিয়ে ফেরেন ৯৭ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে।
টানা তিনটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতে নেন স্যামসন।
টুর্নামেন্টের প্রথমভাগে তাকে খেলায়নি ভারত। আসরে দলের প্রথম পাঁচ ম্যাচের একটিতে সুযোগ পেয়ে খুব একটা ভালোও করতে পারেননি স্যামসন। পরে সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাকে ফেরানো হয় একাদশে। আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও পরের তিন ম্যাচেই দলের জয়ের কারিগরদের একজন ছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ড সিরিজটা খুব বাজে কাটে স্যামসনের। পাঁচ ম্যাচের সবকটি খেলে একবারও ত্রিশ ছুঁতে পারেননি তিনি। সেই ব্যর্থতার মাশুল দেন তিনি বিশ্ব মঞ্চে একাদশে জায়গা হারিয়ে।
তবে তার ওপর আস্থা কখনও হারায়নি দল, আগেও বলেছেন গাম্ভির। ফাইনাল জয়ের পর বললেন, স্যামসন ফর্মে নেই এটা কখনো চিন্তাই করেননি তারা। স্রেফ তাকে চাপ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন তারা।
এরপর যখন মনে হয়েছে, স্যামসনের মতো একজনের দলের প্রয়োজন, তখনই তাকে একাদশে ফেরানো হয় বলে জানালেন গাম্ভির। এর পেছনে সবটাই কৌশলগত কারণ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
“সাহসিকতার চেয়েও এটা ছিল কৌশলগত পরিবর্তন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমার আর অধিনায়কের কখনোই মনে হয়নি সাঞ্জু ফর্মে নেই। নিউ জিল্যান্ড সিরিজের পর আমাদের মনে হয়েছে তার বিশ্রাম প্রয়োজন। লিডারশিপ গ্রুপ হিসেবে মাঝেমধ্যে কাউকে বিশ্রাম দেওয়াটাও ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ এতে চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকা যায়, মাথার সব কিছু ঝেড়ে ফেলা যায় এবং নতুনভাবে ফিরে আসা যায়।”
“অবশ্যই বিভিন্ন কম্বিবেশনে খেলার সুযোগটাও আমাদের ছিল। আর এটাই এই দলের গভীরতা। ব্যাটিং অর্ডারের ওই পজিশনে (নিচের দিকে) রিঙ্কু ছিল। পরে মনে হয়েছে, টপ অর্ডারে টানা তিন বাঁহাতির ধারায় পরিবর্তন আনা দরকার; সেটা অবশ্যই অফ-স্পিনারের বিপক্ষে ভোগান্তির কথা ভেবে নয়। অফ-স্পিনার আমাদের দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য সমস্যা তৈরি করবে—এমন আলোচনা কখনোই হয়নি। আমরা শুধু চেয়েছিলাম ওপরের দিকে সাঞ্জুর মতো সক্ষম ও বিস্ফোরক কাউকে রাখতে, যাতে এক, দুই ও তিন নম্বরে আমাদের তিনজন বিধ্বংসী ব্যাটার থাকে। এটাই ছিল মূল কারণ। এটা সাহসী সিদ্ধান্ত মনে হয় না আমার, এটা ছিল স্রেফ কৌশল।”
বিশ্বকাপের শুরুতে ওপেনার হিসেবে আভিশেক শার্মা ও ইশান কিষানকে খেলায় ভারত। তিনে খেলানো হয় তিলাক ভার্মাকে। আভিশেক তো টানা তিন ম্যাচে শূন্যতে ফেরেন, তিলাকও পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। তখন ইনিংসের শুরুতে দলকে টানেন কিষান।
টানা তিনজন বাঁহাতি নিয়ে গড়া টপ অর্ডার সেভাবে দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারছিল না। এনিয়ে চলছিল অনেক আলোচনা-সমালোচনা। এরপরই তিলাককে নিচে নামিয়ে, স্যামসনকে ফেরায় ভারত। তিনে খেলানো হয় কিষানকে।
স্যামসন ফেরার পর চার ম্যাচের তিনটিতেই আড়াইশ ছোঁয়া পুঁজি গড়ে ভারত। অন্যটিতে রান তাড়া করে জিতে তারা।