Published : 12 Sep 2025, 07:47 PM
আঙ্কিত শার্মার ফুল লেংথ ডেলিভারি লং-অফে খেলেই দৌড় দিলেন রাজাত পাতিদার। রান পূর্ণ হতেই মাঠের বাইরে দলের অন্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানালেন। ব্যাট উঁচিয়ে জবাব দিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আরেকটি সেঞ্চুরি পাওয়ার মুহূর্তটি এভাবে উদযাপন করলেন আইপিএল জয়ী অধিনায়ক।
চলতি দুলিপ ট্রফিতে রানের স্রোত বইয়ে চলেছে পাতিদারের ব্যাটে। সেই ধারাবাহিকতায় সাউথ জোনের বিপক্ষে ফাইনালে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। সেন্ট্রাল জোন অধিনায়কের ১১৫ বলের ইনিংসটি গড়া দুটি ছক্কা ও ১২টি চারে।
এবারের দুলিপ ট্রফিতে এটি পাতিদারের দ্বিতীয় শতক। আসরের কোয়ার্টার-ফাইনালে নর্থ ইস্ট জোনের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯৬ বলে ১২৫ রান করেছিলেন তিনি ৩ ছক্কা ও ২১ চারে।
শেষ আটের ওই লড়াইয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে পাতিদারের ব্যাট থেকে ৩ ছক্কা ও ৬ চারে আসে ৭২ বলে ৬৬ রান। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট জোনের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে ৮৪ বলে ৭৭ রান করতে ১৪টি চার মারেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত এই চারটি ইনিংসই খেলেছেন পাতিদার। প্রতিটি ইনিংসেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি।
পাতিদারের নেতৃত্বে গত ৩ জুন পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মাঝে পেশাদার ক্রিকেটে আর কোনো ম্যাচে খেলা হয়নি তার। ভারতের প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট দুলিপ ট্রফি দিয়ে মাঠে ফিরেই একের পর এক দারুণ সব ইনিংস উপহার দিচ্ছেন তিনি।
বেঙ্গালুরুতে এবারের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় সেন্ট্রাল জোন। বৃহস্পতিবার প্রথম দিন কুমার কার্তিকেয়া ও সারানশ জাইনের চমৎকার বোলিংয়ে সাউথ জোনকে ১৪৯ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। ৫৩ রানে ৪ উইকেট নেন কার্তিকেয়া। আর সারানশ ৫ শিকার ধরেন ৪৯ রান খরচায়।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করে সেন্ট্রাল জোন। কিন্তু শুক্রবার ৫৫ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। ৯৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন পাতিদার ও ইয়াশ রাঠোর। তাদের ১৬৭ রানের যুগলবন্দীতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় সেন্ট্রাল জোন।
চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৭৩ বলে সাতটি চারে ফিফটি স্পর্শ করেন পাতিদার। পঞ্চাশের পর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পা রাখতে তার লাগে কেবল ৩৯ বল। এই সময়ে পাঁচটি চারের সঙ্গে দুটি ছক্কা হাঁকান চারে নামা ব্যাটসম্যান।
১১২ বলে শতক ছুঁয়ে আর টিকতে পারেননি পাতিদার। তিন বল পর থামে তার দারুণ ইনিংসের পথচলা।
তার বিদায়ের পর দলকে টানছেন ইয়াশ ও সারানশ। এক ছক্কা ও ১১ চারে ১৩৭ রানে খেলছেন ইয়াশ। সারানশ অপরাজিত আছেন ৬ চারে ৪৭ রান করে। ৫ উইকেটে ৩৮৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সেন্ট্রাল জোন। ২৩৫ রানে এগিয়ে আছে দলটি।