Published : 08 May 2026, 11:37 PM
জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন দুই রান, সেঞ্চুরির জন্য ফিন অ্যালেনের দরকার ছক্কা। মুকেশ কুমারের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে খেললেন অ্যালেন। বল উড়ে যেতে দেখেই উচ্ছ্বাসে হাত উঁচিয়ে ধরলেন উইকেটে তার সঙ্গী ক্যামেরন গ্রিন। ছক্কা হতেই ডাগআউটে লাফিয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিং। অন্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরাও তখন হাততালিতে মুখর। গ্রিন হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন অ্যালেনকে। তখন পর্যন্ত নির্লিপ্ত অ্যালেন এবার হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন।
এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় অনেক আগেই। অ্যালেনের সেঞ্চুরি হয় কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। তার বিস্ফোরক ইনিংসে বিশাল জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
দিল্লি ক্যাপিটালসকে শুক্রবার ৮ উইকেটে হারায় তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা ২৮ বল বাকি থাকতে।
১০ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ অ্যালেন।
আইপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি, আর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম। এর তিনটিই করলেন তিনি এই বছরে। গত জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশে ৫৩ বলে ১০১ ও মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালেন।
নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেন। আইপিএলে শতক করা দেশটির দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ২০০৮ সালে উদ্বোধনী আসরের প্রথম ম্যাচে কলকাতার হয়ে ও ২০১৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এই স্বাদ পেয়েছিলেন।
ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। ম্যাককালামের দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ আসরে ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও পরের বছর সুনিল নারাইন করেছিলেন শতক।
তবে আগের তিন জনের কেউ অ্যালেনের (৪৭) চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি। ভেঙ্কাটেশ ও নারাইনের লেগেছিল ৪৯ বল, ম্যাককালামের ৫৩।
অ্যালেন তাণ্ডব চালান মূলত দিল্লির স্পিনারদের ওপর। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে যেখানে তিনি ১৬ বলে করেন ২৭ রান, সেখানে স্পিনের বিপক্ষে ৩১ বলে ৭৩!
এবারের আসরে নিজের আগের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই পাওয়ার প্লের মধ্যে আউট হয়েছিলেন অ্যালেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল প্রথম ম্যাচের ৩৭, তিনটিতে যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
এবার দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে দলের ইনিংস শুরু করতে নেমে তিনি পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন ১৭ বলে ২০ রান করে। এরপরই শুরু হয় তার তাণ্ডব। লেগ স্পিনার ভিপরাজ নিগামকে মারেন পরপর চার ও ছক্কা। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের ওভারেও একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি।
ওই ওভারে একটি সুযোগও দিয়েছিলেন অ্যালেন, কিন্তু কঠিন ছিল বেশ, বল মুঠোয় জমাতে পারেননি ফিল্ডার ট্রিস্টান স্টাবস।
কলকাতার জয়ের জন্য যখন দরকার ৪৮ বলে ৩৯ রান, অ্যালেনও তখন সেঞ্চুরি থেকে ৩৯ রান দূরে। পরের ওভারে নিগামকে টানা তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। কুলদিপকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে।
১৬তম ওভারের প্রথম বলে গ্রিন এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন অ্যালেনকে। পরের বলে ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সী ওপেনার।
আইপিএলে এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কখনও পাননি অ্যালেন। এবার কলকাতার হয়ে অভিষেক হয় তার। আগের ম্যাচগুলোতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারলেও এবার তিনিই জয়ের নায়ক।