আইসিসি র্যাঙ্কিং
Published : 22 Jul 2026, 03:40 PM
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলের সিরিজ জয়ের পথে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ভূমিকা রেখে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন তানজিদ হাসান। টানা দুই ফিফটিতে টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ক্যারিয়ার সেরা রেটিং পয়েন্ট পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার। অগ্রগতি হয়েছে আরেক ওপেনার সাইফ হাসানেরও।
পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ যথারীতি বুধবার ঘোষণা করেছে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে এগিয়েছে রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদি হাসান।
জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও হয় হার দিয়ে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জেতে তারা। যার পেছনে বড় অবদান ছিল তানজিদের।
গত শুক্রবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তানজিদ। ম্যাচটি ৩৪ রানে জেতে বাংলাদেশ। এরপর রোববার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে রান তাড়ায় ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৪ উইকেটে জয়ে ম্যাচের সেরা হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সিরিজ সেরার পুরস্কারও ওঠে তারই হাতে।
এই পারফরম্যান্সে সাত ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে আছেন তানজিদ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এখন তিনিই সবার উপরে। তার ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিং ১৭তম, ২০২৫ সালের অক্টোবরে উঠেছিলেন তিনি।
তবে রেটিং পয়েন্টে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তানজিদ। তার রেটিং এখন ৬৪৯। আগের সেরা ছিল ৬৩৬।
আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৫ রান করে সাইফের উন্নতি ৯ ধাপ, অবস্থান ২৭তম। টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের আর কারো অগ্রগতি হয়নি।
প্রথম ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে চল্লিশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে, দুই ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট। দলটির আর কোনো ব্যাটসম্যানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
তিন ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছেন মেহেদি। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে ১৯তম স্থানে এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় ম্যাচে চার উইকেটসহ মোট পাঁচটি নেওয়া লেগ স্পিনার রিশাদের উন্নতি আট ধাপ, আছেন যৌথভাবে ২৫ নম্বরে।
তিন ম্যাচে কোনো শিকার ধরতে না পারলেও, র্যাঙ্কিংয়ে অন্যদের অবনতিতে ৯ ধাপ উপরে উঠে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। অভিজ্ঞ পেসার আছেন ৬৯তম স্থানে।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে বড় লাফ দিয়েছেন দুই পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। প্রথম ম্যাচে চারটি সহ মোট আট উইকেট নেওয়া এনগারাভার উন্নতি ৩৭ ধাপ, আছেন ৩২ নম্বরে। আর প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া মুজারাবানির অগ্রগতি ২২ ধাপ, অবস্থান ৩৬তম।
টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই সবার ওপরে ভারতের ইশান কিষান। বোলারদের তালিকায় শীর্ষে আফগানিস্তানের রাশিদ খান। আর অলরাউন্ডারদের মধ্যে চূড়ায় জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।
ইংল্যান্ড-ভারত ও নিউ জিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় এসেছে এই সপ্তাহের র্যাঙ্কিংয়ে। তিন ম্যাচেই যথাক্রমে অপরাজিত ৭৬, ৯৯ ও ৭৪ রান করে চার ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে আছেন জো রুট। ২০২০ সালের পর শীর্ষ দশে ফিরলেন ইংলিশ গ্রেট।
সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে লর্ডসে রেকর্ড ১৪১ রান করে ১১ ধাপ এগিয়েছেন বেন ডাকেট। ইংল্যান্ড ওপেনারের অবস্থান এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেসি কার্টির সঙ্গে যৌথভাবে ১৯তম।
ওই ম্যাচেই ১৩৮ রান করা রোহিত শার্মা তৃতীয় স্থানের ভিরাট কোহলির সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান অনেক কমিয়ে এনেছেন। রোহিতের পয়েন্ট ৭৫৮, কোহলির ৭৬৭। আর শীর্ষে থাকা ড্যারিল মিচেলের (৮০২) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন শুবমান গিল (৮০১)।
নিউ জিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল ছয় ধাপ ও মার্ক চ্যাপম্যান ১০ ধাপ উন্নতি করেছেন। ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কারো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
বোলারদের তালিকায় ক্যারিবিয়ানদের উন্নতি হয়েছে। সাত ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে নবম স্থানে আছেন গুডাকেশ মোটি। ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে আলজারি জোসেফ। নিউ জিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার তিন ধাপ উন্নতি করে এখন চতুর্থ স্থানে। ইংল্যান্ডের জফ্রা আর্চার এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন।
আগের মতোই সবার ওপরে আফগানিস্তানের রাশিদ খান ও দুইয়ে পাকিস্তানের আবরার আহমেদ।
ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় যথারীতি প্রথম দুই স্থানে আছেন আফগানিস্তানের আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই ধাপ এগিয়ে এখন তৃতীয় স্থানে ব্রেসওয়েল।