Published : 30 May 2026, 09:38 AM
সহজাত প্রতিভার পরিধি কতটা? ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণের গভীরতা কেমন? সবকিছু যেন একটা পর্যায়ে এসে মিলিয়ে যাচ্ছে বৈভাব সুরিয়াভানশির ক্ষেত্রে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভাবনা কিংবা ব্যাখ্যা, প্রচলিত যত ধারণা, সব যেন অসহায় হয়ে পড়ছে তার ক্ষেত্রে। রিয়ান পারাগ যেমন উপযুক্ত কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছে না। রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছেন না, ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটার কীভাতে এতটা ভালো হতে পারেন।
আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থানের পরাজয় দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের আইপিএলে সুরিয়াভানশির বিস্ময় যাত্রা। তবে শেষ ম্যাচেও তিনি যথারীতি নিজের ছাপ রেখেছেন প্রবলভাবে। যদিও তাকে নিয়ে নতুন করে এখন বলার আছে সামান্যই। তবু তিনি মেলে ধরেছেন নিজের নতুন বিজ্ঞাপন।
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তিনি ফিফটি করেছেন ৩১ বলে। যে কোনো মানদণ্ডেই এটিকে ঝড়ো ফিফটি বলতে হবে। কিন্তু সুরিয়াভানশি তো ১৫-১৬ বলের ফিফটিকেই নিয়মিত চিত্র বানিয়ে ফেলেছেন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ৩১ বলের এই ফিফটি তার ক্যারিয়ারের মন্থরতম।
আসলে পরিস্থিতির দাবিই মিটিয়েছেন সুরিয়াভানশি। দল এ দিন শুরুতে উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে, উইকেটেও বল মাঝেমধ্যে থমকে এসেছে। কিশোর ব্যাটসম্যান ঠিকই উইকেটের চরিত্র, কন্ডিশন আর ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। পরে আবার সেই চেনা তাণ্ডবও চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৪৭ বলে ৯৬ রানে।
আগের ম্যাচে তিনি করেছিলেন ২৯ বলে ৯৭। এর এক ম্যাচ আগে করেছিলেন ৩৮ বলে ৯৩। এই তিন ম্যাচেই তিনি আউট হয়েছেন ছক্কা মারার চেষ্টায়। অথচ চাইলেই মাইলফলকের জন্য খেলে তিনটি শতরান আদায় করতে পারতেন। যথেষ্ট সময় তার হাতে ছিল। কিন্তু তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন দলের জন্য দ্রুত রান করাকে।
তার প্রতিভা, তার সামর্থ্য, এসব তো আছেই। কিন্তু এই বয়সেই যেভাবে দলকে সবকিছুর ওপরে রাখেন, যতটা পরিণত পারফরম্যান্স মেলে ধরছেন, তাতে অনেকেরই চোয়াল ঝুলে গেছে।
কাছ থেকে দেখেও যেমন ঘোরের মধ্যে আছেন রিয়ান পারাগ। মৌসুম শেষে রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক বললেন, তিনি নিজেও যেন বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।
“আমি এটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। (ব্যাটিংয়ের) একটা ধরন আছে, যেখানে স্লগের পর স্লগ করে অনেক রান পাওয়া যায়। কিন্তু সে যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা শুধু স্লগিং নয়। এটা অন্ধের মতো ব্যাট চালানোও নয়।”
“প্রথম বল থেকেই ব্যাট চালিয়ে গেলে, আজ সে যা করেছে, তা করা সম্ভব হতো না কখনোই। সে হিসাব করে খেলে, পরিস্থিতি বুঝে খেলে। সে আক্ষরিক অর্থেই সবকিছু ভালোভাবে করে এবং আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি, কীভাবে সে করছে এসব।”
৪৮.৫০ গড় ও ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান নিয়ে এবারের আসর শেষ করলেন সুরিয়াভানশি। রানের তালিকায় আপাতত তিনি সবার ওপরে। এই সংখ্যাগুলি যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি ৭২ ছক্কার রেকর্ড কিংবা আরও একগাদা কীর্তি তিনি গড়েছেন আসরজুড়ে, যা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো।
এই সুরিয়াভানশিকে নিয়ে সামনে সব দলের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়বে নিশ্চিতভাবেই। পারাগের আশা, এই ক্রিকেটার রাজস্থানের হয়েই খেলবেন এবং তার হাত ধরেই বহু আরাধ্য দ্বিতীয় আইপিএল ট্রফি জিতবে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
“আশা করি সে এটা চালিয়ে যাবে। আশা করি, সে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবে। এবং আশা করি, সে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবে এবং আমাদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটি এনে দেবে।”
সেই ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে শেন ওয়ার্নের হাত ধরে চমক দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান। এরপর তারা একবার ফাইনাল খেলেছে (২০২২ আসরে), প্লেঅফে খেলেছে আরও পাঁচবার। কিন্তু ট্রফি আর ধরা দেয়নি।