এশিয়া কাপ
Published : 10 Sep 2025, 10:31 PM
৪০ ওভারের লড়াই শেষ ১৭.৪ ওভারে। ম্যাচ শেষ দুই ঘন্টারও কম সময়ে। এখান থেকেই অনুমান করে নেওয়া যায় ম্যাচের চিত্র। ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারল না সংযুক্ত আরব আমিরাত। কুলদিপ ইয়াদাভ ও শিভাম দুবের দারুণ বোলিংয়ে অনায়াস জয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করল সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয় ৯ উইকেটে।
নাটকীয় ব্যাটিং ধসে স্রেফ ১০ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে আমিরাত ৫৭ রানে গুটিয়ে যায় ১৩.১ ওভারে। সেই রান ভারত পেরিয়ে যায় ৪.৩ ওভারেই।
টি-টোয়েন্টিতে আমিরাতের সর্বনিম্ন স্কোর এটিই। এই মাঠেই গত বছর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২ ছিল তাদের আগের সর্বনিম্ন।
এই সংস্করণের এশিয়া কাপে আমিরাতের চেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার নজির আছে কেবল একটি। ২০২২ আসরে শারজাহতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৮ রানে অলআউট হয়েছিল হংকং।
আইসিসি পূর্ণ সদস্য দলগুলোর মধ্যে ভারতের এই ম্যাচের (৯৩) চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জিততে পেরেছে শুধু ইংল্যান্ড (১০১), ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে।
ভারত এর আগে সর্বোচ্চ ৮১ বল হাতে রেখে জিতেছিল ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
ভারতের এই জয়ের নায়ক কুলদিপ। ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা অভিজ্ঞ বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার। অলরাউন্ডার দুবে ৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
আমিরাতের দুই ওপেনার আলিশান শারাফু (২২) ও মুহাম্মাদ ওয়াসিম (১৯) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
দুবাইয়ে নতুন করে তৈরি পিচে ঘাসের ছোঁয়া যেমন ছিল, তেমনি ছিল কিছু ফাটলও। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আমিরাতের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে পরপর দুটি চার মারেন শারাফু, ওভারে আসে ১০ রান। প্রথম তিন ওভারে আসে ২৫।
জাসপ্রিত বুমরাহ ম্যাচের চতুর্থ ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে শারাফুকে ফিরিয়ে ভাঙেন ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ভারতের হয়ে এই সংস্করণে তারকা পেসারের প্রথম ম্যাচ এটি।
পরের ওভারে স্পিনার ভারুন চক্রবর্তী বিদায় করেন তিনে নামা মুহাম্মাদ জোহাইবকে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বুমরাহকে তিনটি চার মারেন অধিনায়ক ওয়াসিম।
দলের স্কোর যখন পঞ্চাশের দুয়ারে, কুলদিপ বোলিংয়ে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র। একই ওভারে রাহুল চোপরা, ওয়াসিম ও হার্শিত কাউশিককে বিদায় করে দেন তিনি।
দুবে নিজের ১০ বলের মধ্যে তুলে নেন তিনটি উইকেট। মাঝে আকসার প্যাটেলের শিকার একটি। শেষ উইকেট নিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন কুলদিপ।
২ উইকেটে ৪৭ থেকে দ্রুতই ৫৭ রানে শেষ হয়ে যায় আমিরাতের ইনিংস।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম দুই বলে হায়দার আলিকে ছক্কা ও চার মেরে শুরু করেন আভিশেক শার্মা। পরের ওভারে মুহাম্মাদ রোহিদকে চার ও ছক্কা মারেন শুবমান গিল।
পরে আরও দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে আভিশেক (১৬ বলে ৩০) বিদায় নেন জয় থেকে ১০ রান দূরে থাকতে। নেমে প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান সুরিয়াকুমার। চার মেরে ম্যাচের ইতি টানেন গিল (৯ বলে ২০*)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৩.১ ওভারে ৫৭ (শারাফু ২২, ওয়াসিম ১৯, জোহাইব ২, রাহুল ৩, আসিফ ২, হার্শিত ২, ধ্রুব ১, সিমরানজিত ১, হায়দার ১, জুনাইদ ০, রোহিদ ২*; পান্ডিয়া ১-০-১০-০, বুমরাহ ৩-০-১৯-১, আকসার ৩-০-১৩-১, ভারুন ২-০-৪-১, কুলদিপ ২.১-০-৭-৪, দুবে ২-০-৪-৩)
ভারত: ৪.৩ ওভারে ৬০/১ (আভিশেক ৩০, গিল ২০*, সুরিয়াকুমার ৭*; হায়দার ১-০-১০-০, রোহিদ ১-০-১৫-০, ধ্রুব ১-০-১৩-০, জুনাইদ ১-০-১৬-১, সিমরানজিত ০.৩-০-৬-১)
ফল: ভারত ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুলদিপ ইয়াদাভ