Published : 11 Jun 2026, 12:34 PM
০-৩। দেখে মনে হতে পারে, ফুটবল ম্যাচের স্কোর বুঝি। হুট করে টিভি পর্দায় বা অনলাইনে তাকালে চোখ কচলে দেখতে পারেন অনেকে। আদতে এটি অস্ট্রেলিয়ার স্কোর। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি!
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুই ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল তিন উইকেট হারিয়ে শূন্য!
অস্ট্রেলিয়ার ১ হাজার ২৪ ম্যাচের ওয়ানডে ইতিহাসে এমন তেতো অভিজ্ঞতা এই প্রথম। বাংলাদেশও প্রথমবার শূন্য রানে কোনো দলের তিন উইকেট নিতে পারল প্রথমবার।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। আগের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হওয়া ম্যাথু শর্ট এবার প্রথম তিন বল নিরাপদে কাটিয়ে দেন। এরপরই বিভীষিকার শুরু। তাসকিন আহমেদের লেংথ ডেলিভারি সামনে পা বাড়িয়ে ছেড়ে দেন শর্ট। পিচ করে অনেকটা ভেতরে ঢুকে বল ছোবল দেয় স্টাম্পে।
এই নিয়ে টানা তিন ওয়ানডেতে শূন্যতে ফিরলেন শর্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই দুই ম্যাচের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতেও রানের দেখা পাননি তিনি।
শর্টের মতো অবস্থা যে তার দলেরও হবে, কে ভাবতে পেরেছিল!
পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম ডেলিভারিতেই অফ স্টাম্প ঘেঁষা বলে কিপারের হাতে ধরা পড়েন কুপার কনোলি। ওভারের শেষ বলে অনেকটা একইভাবে কিপারের কাছেই ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ৪ হাজার ৯৭৫ ম্যাচের ইতিহাসে শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির আগে ছিল মোটে তিনটি। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশেরও।
২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচটিতে ওভারেই চার উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্রিক করে অনন্য কীর্তি গড়েন চামিন্ডা ভাস। পরের বলটিতে চার মারেন সানোয়ার হোসেন। কিন্তু পঞ্চম বলে বিদায় নেন তিনিও।
বাংলাদেশের আগে শূন্যতে তিন উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। ১৯৯৭ সালে লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলকের বোলিংয়ে আউট হন সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল ও ইজাজ আহমেদ।
ওয়ানডে ক্রিকেট প্রথমবার এমন কিছু দেখেছিল পাকিস্তানের সৌজন্যেই। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে বার্মিংহামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রিচার্ড হ্যাডলি ও ল্যান্স কেয়ার্নসের বোলিংয়ে আউট হন মুদাসসার নাজার, মহসিন খান ও জাহির আব্বাস।
বাংলাদেশ আগে একবার শূন্য রানে নিতে পেরেছিল দুই উইকেট। এই মিরপুরেই ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের নাভদিপ পুনিয়া ও ডুগি ব্রাউনকে প্রথম ওভারে আউট করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।