Published : 08 Jul 2026, 06:14 PM
কদিন আগেই আয়ারল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশড হয়ে এসে ভারত। ইংল্যান্ডের কাছে তো তারা হারতেই পারে। কিন্তু সেই হার এতটাই বাজে যে, শ্রেয়াস আইয়ার তা হজমই করতে পারছেন না। ভারতীয় অধিনায়কের অকপট মন্তব্য, এই ধরনের পারফরম্যান্স মেনে নেওয়ার মতো নয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার ভারত হেরেছে ১২৫ রানে। এই বিশাল ব্যবধানেও আসলে সবটুকু চিত্র ফুটে উঠছে না। ইংলিশদের সামনে ব্যাটে-বলে স্রেফ বিধ্বস্ত হয়েছে টানা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ট্রেন্ট ব্রিজে এ দিন ইংলিশরা ২০ ওভারে তুলেছে ২০১ রান। ভারত গুটিয়ে গেছে ৭৬ রানেই! অলআউট হয়েছে তারা মাত্র ১১.৪ ওভারে। এত কম ওভারে আগে তারা কখনও গুটিয়ে যায়নি।
শ্রেয়াসই প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক, পাঁচ টি-টোয়েন্টিতেও যিনি জয়ের স্বাদ পেলেন না। তবে তিনি বেশি হতাশ দলের হারের ধরনে। ম্যাচের পর পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতেই যেন নিজেদের ওপর চাবুক চালালেন অধিনায়ক।
“আমার মনে হয়, জঘন্য ছিল (পারফরম্যান্স)। সত্যি বলতে, এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আমি ব্যবহার করতে পারব না। এত বড় ব্যবধানে হারাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
আগের ম্যাচে পরিকল্পনা অনেক করা হলেও মাঠে কিছুই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, বললেন শ্রেয়াস।
“টিম মিটিংয়ে বসে অনেক পরিকল্পনা করা যায়, কিন্তু মাঠে নামার পর যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট উইকেটে কোন লেংথে বল করা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝার চেষ্টা করতে হয়। যেমন আজকের এই (পিচ), হার্ড লেংথগুলো বোলারদের বেশ ভালোই সাহায্য করছিল। আমার মনে হয়, আমরা সেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি।”
“আমাদের ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও, ২০০ রান তাড়া করতে হলে শুরু থেকেই গতি বাড়ানো দরকার। ইনিংসটা কীভাবে গড়বেন, একটা নির্দিষ্ট ছক থাকা দরকার।সেই দিক থেকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সুতরাং, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অবশ্যই জঘন্য ছিল।”
শ্রেয়াসের আশা, এই হারে দলের আঁতে ঘা লাগবে এবং দল জেগে উঠবে।
“এখন প্রথমত, আমার মনে হয় আমাদের এই হারটা মেনে নিতে হবে এবং পুরোপুরি নতুন করে পরিকল্পনা করে দেখতে হবে আমরা কী ভুল করেছি। উইকেটের দিকে তাকিয়ে, প্রথমত, আমার মনে হয় না যে এটা ২০০ রানের উইকেট ছিল।”
“কিন্তু তা বাদে, আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি… পাওয়ার প্লেতেই চার-পাঁচটা উইকেট হারিয়েছি। আমার মনে হয়, সেটাই ম্যাচের গতিপথ তৈরি করে দিয়েছিল এবং আমি নিশ্চিতভাবে অনুভব করছি যে, আমরা ওখানে হেরে গেছি। তাই আমাদের আবার নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে।”
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তিনটি শেষে ইংল্যান্ড এগিয়ে আছে ২-০ ব্যবধানে। এক ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ভারতের এখন আর সিরিজ জয়ের উপায় নেই, তবে ড্র করার সুযোগ আছে এখনও। ভুল থেকে শিখে তাই দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ জোগালেন অধিনায়ক।
“শক্তিশালীভাবে ফিরে আসার জন্য এটা একটা দারুণ সুযোগ। অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে খুব বেশি ভাবার দরকার নেই। আমরা অবশ্যই খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি, কিন্তু সেখান থেকে অনেক কিছু শেখারও আছে। ছেলেদের ভাবতে শুরু করতে হবে, কীভাবে তারা দলে প্রভাব ফেলতে পারে বা দলের জন্য সেই মোমেন্টাম তৈরি করতে পারে। তাই অবশ্যই প্রত্যেককে নিজে থেকে ভাবতে হবে এবং দেখতে হবে, কীভাবে তারা ম্যাচ জিততে পারে এবং সেই ধরনের দায়িত্ব নিতে পারে।”
সিরিজের পরের ম্যাচ ব্রিস্টলে বৃহস্পতিবার।