Published : 08 Jul 2026, 08:17 PM
টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হচ্ছে না এক বছর ধরে। ওয়ানডেতেও ঠাঁই মিলছে না গত বছরের বিশ্বকাপের পর থেকে। টেস্টে অবশ্য সুযোগ মিলেছে। তবে ক্যারিয়ারের শেষটাও দেখে ফেলেছেন ট্যামি বাউমন্ট। অনেক রেকর্ড ও অর্জনে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের পথচলায় তাই ইতি টানছেন ইংলিশ কিংবদন্তি।
ভারতের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাবেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটার। টেস্ট ম্যাচটি শুরু হচ্ছে শুক্রবার। অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী এই মাঠে প্রথম নারী টেস্ট এটি।
টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ২০২৩ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন ২০৮ রানের ইনিংসটি। ১১ টেস্ট খেলে তার রান ৩৪ গগে ৬১২।
তার সেরাটা দেখা গেছে ওয়ানডেতে। ১৪০ ম্যাচে ৪ হাজার ৭৩৮ রান করেছেন ৪০.৪৯ গড়ে। সেঞ্চুরি করেছেন ১২টি, এই সংস্করণে যা ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ।
দেশের মাঠে ২০১৭ বিশ্বকাপে স্মরণীয় জয়ের পথে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪১০ রান করে তিনিই ছিলেন প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট।
গত অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে খেলেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন। তবে কদিন আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাকে রাখা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ১০৯টি। ১ সেঞ্চুরি ও ১১ ফিফটিতে ১ হাজার ৯৭৫ রান করেছেন ১১০.০৮ স্ট্রাইক রেটে।
তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা দুই ইংলিশ নারী ক্রিকেটারের একজন তিনি।
নারী ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টিই বেশি হয়। এই সংস্করণেই তিনি দলে ফিরতে পারছিলেন না। আগেও এক দফায় টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে ছিলেন তি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত। তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথাও ভেবেছিলেন। তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।
দল থেকে বাদ পড়ার পর দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ওয়েলশ ফায়ারের হয়ে খেলেন ৬১ বলে ১১৮ রানের ইনিংস, এই টুর্নামেন্টের ছেলে ও মেয়েদের আসর মিলিয়েই যা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সে দলে ফিরেও এসন। তবে আবার বাদ পড়ে যান গত বছর। এবার অবসর নিয়েই ফেলছেন।

বিদায়বেলায় বাউমন্টের বড় তৃপ্তি নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারা। লর্ডসে টেস্ট খেলে বিদায় নিতে পেরেও তিনি উচ্ছ্বসিত।
“প্রায় ১৭ বছর ধরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটা আমার জন্য ছিল সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। ছোটবেলায় যখন ক্রিকেটের প্রেমে পড়ি, তখন আমি ভাবতেও পারিনি যে ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলা সম্ভব। এখন এটা ভেবে আমার খুব ভালো লাগে যে, কত ছেলেমেয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছে এবং আমাদের দেশে খেলাটি কতদূর এগিয়েছে।
আমরা সবসময়ই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই ক্যাপটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছি এবং এখন সময় এসেছে ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের হাতে সেই বিশেষ অধিকারটি তুলে দেওয়ার। লর্ডসের এই টেস্ট ম্যাচটি—লর্ডসে আমাদের সর্বপ্রথম নারী টেস্ট—এমন একটি ক্যারিয়ারের ইতি টানার জন্য উপযুক্ত উপলক্ষ বলে মনে হচ্ছে, যা এতটা বিশেষ হবে তা, আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি।”
ইংলিশ ক্রিকেট তথা নারী ক্রিকেটে বাউমন্টের অবদানের কথা বললেন ইংল্যান্ড নারী দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্লেয়ার কনর।
“ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলে ট্যামি এক অসাধারণ অবদান রেখেছেন এবং তার অভাব আমরা প্রবলভাবে অনুভব করব। আমাদের এই খেলায় ট্যামির প্রভাব ভাষায় প্রকাশ করা বা পরিমাপ করা অসম্ভব। ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম কয়েক বছর একজন অপেশাদার হিসেবে খেলেছেন; তিনি সেই অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে খেলার প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতি এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে।”
আমি জানি, ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে দেওয়া এবং ইংল্যান্ডকে জিততে সাহায্য করাটা ট্যামির কাছে কতটা অর্থবহ ছিল। তিনি সবসময় খেলার তৃণমূল স্তরের সঙ্গে এবং যে কারণে তিনি নিজে খেলা শুরু করেছিলেন, তার সাথে সংযুক্ত থেকেছেন। এভাবে তিনি এক চমৎকার রোল মডেল হয়ে উঠেছেন, যিনি সবসময় পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাবেন বাউমন্ট।