১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাফির ৫ উইকেট, ১৬৫ বলে ফিফটি চান্দারপলের

জ্যাকব ডাফি ও ম্যাট হেনরির ছোবলে ৬৫ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ডাফির ৫ উইকেট, ১৬৫ বলে ফিফটি চান্দারপলের
ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Dec 2025, 07:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

গতি ছিল মন্থর, কিন্তু লড়াই ছিল অটুট। তেজনারাইন চান্দারপল ও শেই হোপের চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু এক সময় ভেঙে পড়ল তাদের প্রতিরোধ। জ্যাকব ডাফি ও ম্যাট হেনরির ছোবলে ভেঙে পড়ল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং।

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটু এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দিনে ম্যাচের লাগাম নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের লিড নিয়ে কিউইরা এখন এগিয়ে ৯৬ রানে। উইকেট আছে সবকটিই।

প্রথম ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের ২৩১ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৬৭ রানে। কিউইরা দিন শেষ করে বিনা উইকেটে ৩২ রানে।

চান্দারপল ও হোপের ব্যাট থেকে আসে লড়িয়ে ফিফটি। ক্যারিবিয়ান গ্রেট শিবনারাইন চান্দারপলের ছেলে তেজনারাইন ফিফটিতে পা রাখতে বল খেলেন ১৬৫টি!

এই দুজন মিলেই করেন ১০৮ রান। অতিরিক্ত থেকে যোগ হয় ২৮ রান। কিউইরা ক্যাচ ছাড়ে চারটি। তার পরও ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস থেমে যায় এত অল্পতে। শেষ উইকেট হারায় তারা ৬৫ রানের মধ্যে।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান কিউই পেসার ডাফি। মিডল অর্ডার ভেঙে দেওয়ার কাজটি অবশ্য করেন তিন উইকেট শিকারি হেনরি।

হ্যাগলি ওভালের উইকেটে প্রথম দিনের মতো এতটা মুভমেন্ট মেলেনি এ দিন। তবে পিচ পেস সহায়কই ছিল। আকাশ বেশির ভাগ সময় ছিল মেঘলা।

দিনের শুরুটা ছিল নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস দিয়ে। ৯ উইকেটে ২৩১ রান নিয়ে শুরু করা দল বাকি উইকেটটি হারায় দিনের তৃতীয় বলেই। জ্যাক ফোকসকে বিদায় করে দেন জেডেন সিলস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেট হারায় দ্বিতীয় ওভারেই। ফোকস সাফল্য পান নিজের প্রথম বলে। তৃতীয় স্লিপে জন ক্যাম্পবেলের দুর্দান্ত ক্যাচ নেন উইল ইয়াং।

প্রথম ১০ ওভারে ক্যারিবিয়ানরা তোলে ১০ রান। এরপর আলিক আথানেজের (৩৪ বলে ৪) স্টাম্প এলোমেলো করেন হেনরি।

এরপর চান্দারপল ও হোপের লড়াই। প্রথম ২৫ ওভারে কোনো বাউন্ডারি আসেনি চান্দারপলের ব্যাট থেকে। প্রথম চার মারার আগে তার রান ছিল ৭০ বলে ১৯।

২ উইকেটে ১০ রান থেকে এই দুজনের ব্যাটেই ১০০ রানে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৯০ রানের এই জুটি ভাঙেন ডাফি। শর্ট বলে শাফল করে খেলার চেষ্টায় অদ্ভুতভাবে কিপারের কাছে ধরা পড়েন হোপ (১০৭ বলে ৫৬)।

খেলার মোড় বদলের শুরু সেখানেই। হেনরি এক ওভারেই দারুণ ডেলিভারিতে বিদায় নেন রস্টন চেইস, বাজে শটে উইকেট হারান জাস্টিন গ্রেভস। দুজনই ফেরেন শূন্যতে।

এরপর চান্দারপল ও টেভিন ইমলাখ চেষ্টা করেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার। সেটি খুব লম্বা হয়নি।

দুইবার জীবন পাওয়া চান্দারপল ফিফটির পরপর আউট হয়ে যান ডেভন কনওয়ের দারুণ ক্যাচে। ২৭৩ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১৬৯ বলে ৫২ রান করেন ২৯ বছর বয়সী বাঁহাতি এই ওপেনার।

ডাফির উইকেট তখনও একটি। দারুণ একে স্পেলে চার উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ করে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার। ক্যারিবিয়ানরা শেষ চার উইকেট হারায় ১০ রানের মধ্যে।

নিউ জিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে দিনটা ভালোভাবে শেষ করে দেয় টম ল্যাথাম ও কনওয়ের ব্যাটে।

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৩১

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৭৫.৪ ওভারে ১৬৭ (ক্যাম্পবেল ১, চান্দারপল ৫২, আথানেজ ৪, হোপ ৫৬, চেইস ০, গ্রেভস ০, ইমলাখ ১৪, রোচ ১০*, লেইন ০, সিলস ২, শিল্ডস ০; হেনরি ২২-৭-৪৭-৩, ফোকস ১৮-৭-৩২-২, স্মিথ ১৫-৬-৩৯-০, ডাফি ১৭.৪-৭-৩৪-৫, ব্রেসওয়েল ২-১-৩-০, রাভিন্দ্রা ১-১-০-০)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৭ ওভারে ৩২/০ (ল্যাথাম ১৪*, কনওয়ে ১৫*)।