আইপিএল
Published : 26 May 2025, 04:38 PM
আইপিএলের শেষ দিকে সুযোগটা আসে বদলি হিসেবে। হার্শ দুবে সেটা লুফে নেন দুই হাতে। কেবল তিনটি ম্যাচ খেলেই স্পিন জাদুতে ছড়ান মুগ্ধতা। ড্যানিয়েল ভেটোরি ও আনিল কুম্বলের মতো গ্রেট স্পিনাররা তার মধ্যে দেখছেন অপার সম্ভাবনা।
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তা ২২ বছর বয়সী দুবে অবশ্য আগেই দিয়েছিলেন। এবারের রাঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। বিদার্ভার হয়ে ১০ ম্যাচে তার শিকার ছিল ৬৯ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন পাঁচবার, চার উইকেট তিনবার এবং ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন দুই দফায়।
রাঞ্জি ট্রফিতে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড সেটি। বিহারের বাঁহাতি স্পিনার আশুতোষ আমানের ৬৮ উইকেট পেরিয়ে যান হার্শ।
বাঁহাতি এই স্পিনারকে চলতি মাসের শুরুতে বদলি ক্রিকেটার হিসেবে দলে টানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথমবার আইপিএলে ডাক পেয়ে মাঠে নামতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধের জেরে স্থগিত হওয়ার পর পুনরায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে দলের প্রথম ম্যাচেই একাদশে সুযোগ পান তিনি।
লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৪৪ রান খরচায় ১ উইকেট নিতে পারেন হার্শ। তবে প্রথম বল থেকেই সামর্থ্যের ঝলক দেখান তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে আসা এই স্পিনার নিজের প্রথম বলেই পেতে পারতেন উইকেট। কিন্তু মিচেল মার্শের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি কিপার ইশান কিষান।
হার্শের পরের ওভারের প্রথম বলে এইডেন মার্করামকে স্টাম্পিং করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন কিষান। নিজের তৃতীয় ওভারে মার্শকে ফিরিয়েই আইপিএলে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান হার্শ।
পরের ম্যাচে নিজেকে আরও গুছিয়ে নেন হার্শ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে কেবল ২০ রান দিয়ে নেন ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট ভিরাট কোহলির উইকেট।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া হায়দরাবাদের আসরের শেষ ম্যাচে হার্শ ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। রোববার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে কেবল ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। টানা দুই বলে রিংকু সিং ও আন্দ্রে রাসেলকে ফেরান হার্শ। পরে ধরেন রামানদিপ সিংয়ের শিকার।
হাইনরিখ ক্লসেনের সেঞ্চুরি ও ট্রাভিসে হেডের তাণ্ডবে এদিন ২৭৮ রানের পুঁজি গড়ে কলকাতাকে ১১০ রানে হারায় হায়দরাবাদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হার্শকে স্তুতির জোয়ারে ভাসান দলটির প্রধান কোচ ও কিউই স্পিন গ্রেট ভেটোরি।
“দলে আসার পর থেকে সে যা করেছে, তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট-অবশ্যই সে বুদ্ধিমান একজন বোলার। সে কন্ডিশন ভালো বোঝে, সেই অনুযায়ী কীভাবে বল করতে হয় জানে এবং বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে পারে।”
“তার জন্য ভালো দিক হলো, আগামী আইপিএলের আগে সে অনেক ক্রিকেট খেলবে, সেটা ভারত ‘এ’ দলের জার্সিতে হোক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে। সে প্রচুর সুযোগ পাবে, তাই আমরা বিশ্বাস করি বোলার হিসেবে সে উন্নতি করবে। একই সঙ্গে ব্যাটসম্যান হিসেবেও, কারণ তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য আমাদের ভাবনার বড় অংশ ছিল।”
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এরই মধ্যে ১৮ ম্যাচে ৯৭ উইকেট নিয়েছেন হার্শ। সাদা বলে এখনও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও, ঝলক দেখিয়েছেন তিনি আইপিএলে। লিস্ট ‘এ’ তে ২০ ম্যাচে তার শিকার ২১ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টিতে ১৯ ম্যাচে প্রাপ্তি ১৪টি।
ইংল্যান্ডে দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলবে ভারত ‘এ’ দল। আসছে সিরিজটির দলে আছেন দুবে। লাল বলের এই লড়াইয়ে তার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর অনুষ্ঠান ‘টাইম আউট’-এ দুবের বোলিংয়ের নানা দিক তুলে ধরেন কুম্বলে। ভারতীয় স্পিন গ্রেট সেখানেই বলেন এই তরুণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা।
“তার অবশ্যই সম্ভাবনা রয়েছে এবং আজ আমরা তাকে সাদা বলের সংস্করণে বোলিং করতে দেখেছি। ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। আর উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে সে ঘরোয়া ক্রিকেটে তা দেখিয়েছে। ভারত ‘এ’ দলে জায়গা পাওয়া তার জন্য দুর্দান্ত একটি সুযোগ।”