Published : 23 Jan 2026, 08:43 PM
শর্ট ডেলিভারি লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় টাইমিং করতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। কাছেই বল উঠে গেল আকাশে। বোলার শরিফুল ইসলাম নিজেই দৌড়ে গিয়ে বল মুঠোয় জমিয়ে ছুড়ে দিলেন ওপরে। দুই হাত উঁচিয়ে তাকিয়ে রইলেন আকাশ পানে। এরপর সতীর্থদের অভিনন্দনের জোয়ারে হাসিমুখে হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে।
ইনিংসের শেষ বলে উইকেট নিয়েছেন। তবে শরিফুলের উচ্ছ্বাসের কারণ শুধু সেটিই নয়। ওই উইকেট তাকে তুলে নিয়েছে নতুন উচ্চতায়। বিপিএলে এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের কীর্তি এখন তারই।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে বাঁহাতি পেসার এবারের বিপিএল শেষ করলেন ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে। আসরজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন তাসকিন আহমেদের রেকর্ড।
গত আসরেই রেকর্ডটি গড়েছিলেন তাসকিন। এক ম্যাচে সাত উইকেটের বিরল কীর্তিসহ গতবার দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।
সেবার তিনি ভেঙে দেন ২০১৯ আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ১৫ ম্যাচে ২৩ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসানের রেকর্ড।
তাসকিনকে ছুঁতে মিরপুরে শুক্রবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ফাইনালে শরিফুলের প্রয়োজন ছিল এক উইকেট। পাওয়ার প্লেতে দুই ওভারে ১২ রান দিয়ে কোনো উইকেট তিনি পাননি।
ষোড়শ ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় তাকে। তার তৃতীয় বল ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন কেন উইলিয়ামসন। পরের বল আবার উড়িয়ে মেরে লং অফে ধরা পড়েন নিউ জিল্যান্ডের তারকা।

সেই উইকেটে তাসকিনের পাশে জায়গা করে নেন শরিফুল। পরে ইনিংসের শেষ বলের উইকেটে নতুন চূড়ায় পা রাখেন তিনি।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে এবারের আসর শুরু করেন শরিফুল। পরের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কোনো উইকেট তিনি পাননি। আসরে ওই একটি ম্যাচেই কেবল উইকেটশূন্য থাকেন ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
তৃতীয় ম্যাচে তিনি ৩ উইকেট শিকার করেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে উইকেট পান একটি। পরের ম্যাচে ২ উইকেট নেন রাজশাহীর বিপক্ষে।
দুর্দান্ত বোলিং করেন তিনি নোয়াখালীর বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে, কেবল ৯ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। যেখানে শেষ দুই ওভারে স্রেফ ১ রানে ৪টি শিকার ধরেন তিনি।
তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ উইকেট সেটি। বিপিএলে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নেওয়ার নজিরও এটি।
পরের ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে নেন ৩ উইকেট, প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ২টি। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীর বিপক্ষে চার ওভারে ১৬ রানে দিয়ে তিনি পান একটি উইকেট।
ফাইনালে একটু খরুচে বোলিং করেছেন তিনি, ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৩ রান। তবে ২ উইকেট নিয়ে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে।