Published : 07 Jun 2026, 12:10 PM
এই তো সেদিনের ঘটনা, বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে উল্লাসে মেতে উঠলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। অথচ আজ তিনি দলেই নেই। অধিনায়ক থেকে সরাসরি দলে জায়গা হারানোর ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে নজিরবিহীন। এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের জন্য বড় দৃষ্টান্ত বললেন রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। আরও বড় তারকাদের ক্ষেত্রে এমনটি করা হতো কি না, সেই প্রশ্নও তুললেন ভারতের সাবেক এই স্পিনার।
গত ৮ মার্চ সুরিয়াকুমারের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে ভারত। তিন মাস পার হওয়ার আগেই এখন তিনি আর টি-টোয়েন্টি দলেই নেই। নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারকে। সুরিয়াকুমার বাদ পড়েছেন সামনে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের দল থেকে।
দল ভালো করলেও অনেক দিন ধরেই ব্যাট হাতে সময়টা ভালো কাটছিল না সুরিয়াকুমারের। ভালো করতে পারেননি তিনি এবারের আইপিএলেও। তাকে বাদ দেওয়ার পেছনে ব্যাটিংয়ে ফর্ম হারানোর দিকটি তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচকরা বলেছেন ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ার কথাও।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর ভিডিও শো-তে অশ্বিন বললেন, নিজেকে সুরিয়াকুমারের জায়গায় রেখে তিনি প্রশ্ন তোলার অবকাশ দেখছেন।
“আমার মনে হয়, এটা ইন্টারেস্টিং দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমি শুধু নিজেকে সুরিয়াকুমারের জায়গায় রেখে এক মুহূর্তের জন্য ভাবতে চাই যে, এই মুহূর্তে তার কেমন লাগছে। দল থেকে বাদ পড়লে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই হতাশ হওয়ার অধিকার আছে এবং এ নিয়ে খারাপ লাগলে, সেটাও স্বাভাবিক।”
“কিন্তু পুরো ব্যাপারটা যেভাবে এটা করা হয়েছে, তা নিয়ে আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারণ আমার মাথায় ঘুরছে … নিজেকে সুরিয়ার জায়গায় রেখে বিষয়টা নিয়ে ভাবছি, ‘ঠিক আছে, এটা ঠিক যে গত ১৮ মাস বা ১৫ মাস বা যা-ই হোক না কেন, আমার ব্যাটিং ফর্ম আমাকে হতাশ করেছে। আমি যে সেরা ফর্মে থাকতে পারতাম, সেই ফর্মে ছিলাম না। কিন্তু তারপরেও আমি দেশের জন্য একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছি!’ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপটা খুব একটা ভালো কাটেনি, কিন্তু দলের বাকি সবার মতো — কোচ, সহ-অধিনায়ক, সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলার — তিনিও তো অধিনায়ক হিসেবে সেরা ছিলেন, তাই না? তিনি নিজের ভূমিকা পালন করেছেন।”
অধিনায়ক থেকে সরাসরি দলে জায়গা হারানোর ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে নজিরবিহীন। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করেন অশ্বিন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুললেন, আরও বড় তারকাদের ক্ষেত্রে এমনকি করা হতো কি না।
“তার জায়গায় বড় মাপের কোনো কিংবদন্তি হলে কি আমরা এমন করতে পারতাম? এমন কোনো নজির কি আছে যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী কোনো অধিনায়ককে কোনো আল্টিমেটাম ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে?”
“অবশ্যই আমি নিশ্চিত যে, এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে (নির্বাচকদের পক্ষ থেকে), এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলকের দিন। কারণ ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এলে এটিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।”
শ্রেয়াসের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই অশ্বিনের। অধিনায়ক হিসেবে তাকে যোগ্যও মনে করেন তিনি। তবে বরাবরই ভিন্ন ধারণার চিন্তার জন্য পরিচিত এই স্পিন গ্রেট প্রশ্ন তুললেন প্রক্রিয়াটি নিয়ে।
“শ্রেয়াস আইয়ারের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে খুব সম্প্রতি আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমি পুরোপুরি পক্ষে। কিন্তু আবারও ভাবছি... যদি আমি সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্য ১৪ জন সদস্যের একজন হতাম, তাহলে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বলতাম, ‘আরে, আমরা তো বেশ কিছুদিন ধরেই এখানে আছি। অধিনায়ক হিসেবে একটি পদ পাওয়ার জন্য আমরা কি যথেষ্ট করিনি?”
“সম্ভবত শ্রেয়াসের পক্ষে যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো, তিনি কলকাতার অধিনায়ক হিসেবে একটি আইপিএল জিতেছেন। আইপিএলে তিনি যে একজন চমৎকার অধিনায়ক ছিলেন, তা কোনোভাবেই খাটো করব । তার অনেক কৌশলই সঠিক। কিন্তু, তা সত্ত্বেও, দলের যে নীতি ও আদর্শ রয়েছে, তা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সঠিক মানের হওয়া প্রয়োজন। সহ-অধিনায়ক হিসেবে আকসার প্যাটেল ছিলেন একটি বড় পছন্দ। যদি সহ-অধিনায়ক নির্বাচনটি পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে আমাদের বারবার সেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।”